কবি, অনুবাদক ও সাংবাদিক রথো রাফি আর নেই। হৃদরোগসহ শারীরিক নানা জটিলতা নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৫১ বছর।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার মৃত্যু হয়।
তার ছোট ভাই মো. এহতেশামুল হক গণমাধ্যমকে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
এহতেশামুল হক জানান, গত সোমবার রথো রাফিকে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুস ও কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে লাইফ সাপোর্টেও রাখা হয়েছিল।
শুক্রবার রথো রাফির মরদেহ তার জন্মস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ তারুয়া গ্রামে নেওয়া হবে। জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার পাশে তাকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন তার ছোট ভাই এহতেশামুল হক।
রথো রাফি কবিতা ও অনুবাদের জগতে নিজস্ব ভাষাভঙ্গি তৈরি করেছিলেন। তার একমাত্র কাব্যগ্রন্থ ‘অক্ষর ও বালির পৃথিবী’। ৪৩২ পৃষ্ঠার বইটিতে স্থান পেয়েছে দুই শতাধিক কবিতা। ১৯৯৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দুই দশকে লেখা কবিতাগুলো নিয়ে সংকলনটি প্রকাশিত হয়।
তার কবিতায় মানুষের জন্ম-মৃত্যুর দর্শন, কৃষ্ণের বাঁশি এবং যিশুর ক্রুশযাত্রার মতো নানা বিষয় উঠে এসেছে। বিশ্বসাহিত্যের বিভিন্ন কবির কবিতাও বাংলায় অনুবাদ করেছেন তিনি।
অনুবাদক হিসেবে রথো রাফি এরিখ ফ্রাইড, চার্লস বুকোস্কি, মুহাম্মদ আল-মাঘুত ও ইয়ারোস্লাভ সাইফার্টের মতো কবিদের রচনা বাংলাভাষী পাঠকদের কাছে তুলে ধরেছেন। তার অনুবাদের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার পাঠকেরা বিশ্বকবিতার নানা ধারা ও কণ্ঠের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।