ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা ইদানীং বাড়ছে। ধূমপান করেন না বা তামাকজাত দ্রব্যের নেশা নেই, এমন মানুষজনও ফুসফুসে ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন। এর কারণ কী?
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ফুসফুসের ক্যানসার নিয়ে একাধিক গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, বাতাসে ভাসমান দূষিত কণা, যানবাহন বা কলকারখানার ধোঁয়ায় থাকা কার্বন মনোক্সাইড, সালফারের মতো রাসায়নিক ফুসফুসের কোষের ক্ষয় করতে থাকে। ফলে কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনও দেখা গিয়েছে, দূষিত বাতাসে থাকা রাসায়নিকের কারণে জিনের রাসায়নিক বদল বা মিউটেশনও ঘটেছে। ফলে সুস্থ জিন পরিবর্তিত হয়ে ক্যানসারের আশঙ্কা বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।
পরোক্ষ ধূমপানের কারণে ফুসফুসে আক্রান্ত হয়েছেন অনেকে। ধূমপানে ফুসফুস, কিডনি, লিভার, পাকস্থলী, জরায়ু, মুখ ও গলার ক্যানসার, এমনকি লিউকেমিয়াও হতে পারে। সিগারেটের ধোঁয়া প্রতিনিয়ত শরীরে ঢুকলে নারীদের প্রজনন ক্ষমতা কমে যেতে পারে। হরমোনের ভারসাম্যও নষ্ট হতে পারে।
নারীদের ফুসফুসের ক্যানসার হওয়ার আরও একটি কারণ হল রান্নার সময়ে নির্গত ধোঁয়া। উচ্চ তাপমাত্রায় তেল গরম করলে যে ক্ষতিকর রাসায়নিক বাষ্প তৈরি হয় যা শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে ঢুকে মারাত্মক ক্ষতি করে। রান্নাঘরে গ্যাস বা অন্যান্য জ্বালানি দিয়ে রান্না করার সময়ে যে কার্বন ডাই অক্সাইড ও কার্বন মনোক্সাইড বার হয়, তা ফুসফুসের পক্ষে বিপজ্জনক।
তাছাড়া রান্না করার সময়ে যে তেল বা মশলাপোড়া ধোঁয়া বের হয় তাতে বেঞ্জিন, ফরম্যালডিহাইডের মতো রাসায়নিক থাকে, যা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই সতর্ক থাকতেই হবে।
চিকিৎসকেরা বলছেন, কাশি নাগাড়ে চলতে থাকলে এবং কফের সঙ্গে রক্তপাত হলে, সেই সঙ্গে বুকে ব্যথা, মাথার যন্ত্রণা, নিউমোনিয়ার উপসর্গও দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন।
সূত্র: আনন্দবাজার