বিশ্বের সেরা দুই শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় টানা দ্বিতীয় বছরের জন্য স্থান পেলেন কলকাতার দুই মনোরোগ বিশেষজ্ঞ দেবাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় ও ওমপ্রকাশ সিং। সম্প্রতি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এলসেভিয়ার প্রকাশনা সংস্থার প্রকাশিত ২০২৬ সালের সংশোধিত তালিকায় ফের তাঁদের নাম উঠে এসেছে। এ বছর দেশের মোট ১৫ জন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কলকাতার এই দুই চিকিৎসকের নাম থাকা চিকিৎসা ও গবেষণাক্ষেত্রে বাংলার কাছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
কলকাতার অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত দেবাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় চিকিৎসার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে গবেষণার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বার্ধক্যজনিত মানসিক সমস্যা, স্মৃতিভ্রংশ, যৌনস্বাস্থ্য, সামাজিক মনোরোগবিদ্যা এবং মানসিক অসুস্থতাকে ঘিরে সামাজিক কুসংস্কার তাঁর গবেষণার অন্যতম প্রধান বিষয়। মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এই সংক্রান্ত সামাজিক ধারণার পরিবর্তনেও তাঁর গবেষণার গুরুত্ব রয়েছে।
অন্যদিকে, ওমপ্রকাশ সিং মেদনীপুর মেডিকেল কলেজের সঙ্গে যুক্ত। চিকিৎসা পরিষেবার পাশাপাশি গবেষণা ও শিক্ষামূলক কাজেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রয়েছেন তিনি। পরপর দু’বছর আন্তর্জাতিক এই তালিকায় দুই চিকিৎসকের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া তাঁদের ধারাবাহিক গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন শাখার গবেষকদের কাজের প্রভাব ও গুরুত্ব বিচার করে এই তালিকা তৈরি করা হয়। ২০২৬ সালের মূল্যায়নে ২২টি প্রধান বিজ্ঞানক্ষেত্র এবং ১৭৪টি উপক্ষেত্রের গবেষকদের কাজ বিবেচনা করা হয়েছে। শুধু গবেষণাপত্র প্রকাশের সংখ্যা নয়, সেই গবেষণা অন্য গবেষকদের কাজে কতটা ব্যবহৃত হচ্ছে, কতবার উদ্ধৃত হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণায় বিজ্ঞানীর ভূমিকা কতটা এমন একাধিক বিষয় মূল্যায়ন করা হয়।
চিকিৎসাবিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণা বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। রোগীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, নতুন চিকিৎসাপদ্ধতির উন্নয়ন এবং মানসিক অসুস্থতা সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গবেষণার ভূমিকা ক্রমশ বাড়ছে। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যকে ঘিরে প্রচলিত কুসংস্কার দূর করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের সেরা দুই শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় টানা দ্বিতীয় বছর দেবাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় ও ওমপ্রকাশ সিংয়ের নাম উঠে আসা বাংলার চিকিৎসা ও গবেষণাক্ষেত্রে নতুন করে উৎসাহ জোগাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
