নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম নগরের সদরঘাট থানা-পুলিশের অভিযানে কিশোর গ্যাং ‘নুরু বাহিনীর’ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া একটি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ছিনতাই ও হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত একটি রামদা ও একটি টিপছোরা জব্দ করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সদরঘাট থানা-পুলিশ পাহাড়তলী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ।
পুলিশ জানায়, গত ১৮ অক্টোবর রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে সদরঘাট থানার পশ্চিম মাদারবাড়ী ১ নম্বর গলির মুখে সড়কে কিশোর গ্যাং লিডার নুরুর নেতৃত্বে ১৪ থেকে ১৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জড়ো হয়। এ সময় তারা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে অটোরিকশাচালক মো. সাখাওয়াত হোসেনকে (২৪) মারধর করে তাঁর অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় অটোরিকশার মালিক আহমদ নুরের (২০) করা অভিযোগের ভিত্তিতে সদরঘাট থানায় মামলা করা হয়।
একই দিন ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে মোগলটুলি কমার্স কলেজ রোডের সৈয়দিয়া ম্যানশনের বিপরীতে মো. জাহেদ (২৭) নামে এক যুবককে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ রয়েছে ওই দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, তাঁকে একটি পরিত্যক্ত ঘরের কক্ষে নিয়ে চাপাতি, কিরিচ ও ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়।
এতে তাঁর ডান পায়ের পাতা, বাম পায়ের গোড়ালি ও ডান হাতের তালুতে গুরুতর জখম হয়। এ ঘটনায় জাহেদের ভাই ইকবাল হোসেনের করা অভিযোগের ভিত্তিতে সদরঘাট থানায় আরেকটি মামলা করা হয়েছে।
সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ একরাম উল্লাহর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল পাহাড়তলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার এবং হামলায় ব্যবহৃত একটি রামদা ও একটি টিপছোরা জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. সাগর (২৫), মো. শরীফ (২২) ও মো. সজীব (২৫)। পুলিশ জানায়, তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
