এবার মাদারগঞ্জ এলাকার অমিত কুমার চৌধুরীর মেয়ে শ্রেষ্ঠা চৌধুরীকে দেবী রূপে পূজা করা হয়। সে তাজপুর মোহনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। মন্দিরে প্রচলিত ধর্মীয় রীতি ও নিয়ম মেনে পূজার মন্ত্র পাঠ করেন পুরোহিত চপল চক্রবর্তী।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতিটি নারীর মধ্যেই জগজ্জননীর প্রতিচ্ছবি বিরাজমান। শ্রীরামকৃষ্ণের বাণী অনুসারে, সব নারীই ভগবতী বা জগজ্জননীর একেকটি রূপ। এই বিশ্বাস থেকেই কুমারীকে জীবন্ত দেবীর প্রতীক হিসেবে আসনে বসিয়ে পূজা করা হয়।
মহাঅষ্টমীর পূজা-অর্চনা শেষে শ্রেষ্ঠাকে নতুন লাল শাড়ি, গহনা ও পুষ্পমালায় দেবীর সাজে সাজিয়ে পূজামণ্ডপের নির্ধারিত আসনে বসানো হয়। এ সময় ঢাক-ঢোল, কাঁসর ও শঙ্খের ধ্বনির পাশাপাশি নারী ভক্তদের উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় এক ভক্তিময় পরিবেশ।
কুমারী পূজা দর্শন ও দেবীর চরণে অঞ্জলি দিতে সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্ত মাদারগঞ্জ দুর্গা মন্দিরে সমবেত হন। ভক্তদের উপস্থিতিতে পূজামণ্ডপে উৎসবের আমেজ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন, জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব মনজুরে মওলা পলাশ, মাদারগঞ্জ দুর্গা মন্দিরের সভাপতি অমিত কুমারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও অসংখ্য ভক্ত। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, ভক্তদের অংশগ্রহণ এবং আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে জয়পুরহাটে মহাঅষ্টমীর কুমারী পূজা সম্পন্ন হয়।
The post জয়পুরহাটে উৎসবমুখর পরিবেশে মহাঅষ্টমীর কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত appeared first on ভোরের চেতনা.
