Published on
:
2 min read
সোমনাথ মাইতি, কাঁথি
এই পুজোর ঘট বসে পশ্চিম দিকে মুখ করে। দেবীকে নিবেদন করা হয় নারকেল, সুজি আর গুড় দিয়ে তৈরি বিশেষ এক মিষ্টি। প্রায় ৩০০ বছর ধরে এ ভাবেই দুর্গাপুজো হয়ে আসছে কাঁথির কিশোরনগর গড়ে।
কথিত রয়েছে, দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে কাঁথির রাজা যাদবরাম রায় এই পুজো শুরু করেছিলেন। এখন আড়ম্বর আর জৌলুস কমেছে। কিন্তু পুরোনো নিয়ম মেনেই পুজো চলছে। পঞ্চমুণ্ডির আসনে পুজো হয়। ষষ্ঠী থেকে প্রতিমা পুজো শুরু হলেও মহালয়া থেকে ঘটে পুজো শুরু হয়। ঠাকুর দালানের এক পাশে ঘট স্থাপন করে পুজোর পাশাপাশি প্রতিদিন চলে চণ্ডীপাঠ। রাজবাড়ির নাট মন্দিরে বসে কীর্তনের আসর। পুজো ঘিরে একটি গল্প কথিত রয়েছে।
রাজপরিবারের বর্তমান সদস্যরা জানাচ্ছেন, এক ঝড়-জলের রাতে দেবী ষোড়শী রূপে রাজবাড়িতে আসার জন্য কাছেই থাকা মশাগাঁ খালের পাশে আসেন। সেই সময়ে খাল পেরিয়ে কিশোরনগর গড়ে আসতে হতো। সেদিন ঝড়-জলের রাতে মাঝি তাড়াতাড়ি খেয়া পারাপার বন্ধ করে বাড়ি চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই সময়ে কিশোরী রূপে দেবী মাঝিকে অনুরোধ করেন তাঁকে খাল পার করে দিতে, তিনি রাজবাড়িতে যাবেন। প্রথমে মাঝি খাল পার করতে রাজি হননি। পরে নরোত্তম বর নামে এক জেলে ওই কিশোরীকে নৌকোয় করে খাল পার করে দেন।
এরপর রাতে দেবী নরোত্তমকে স্বপ্ন দেন পুজোর সময়ে রাজবাড়িতে চণ্ডীমঙ্গল পাঠ করতে। নরোত্তম রাজার কাছে সেই স্বপ্নের কথা বললে প্রথমে রাজা তাঁকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু নরোত্তম মন্দিরের পশ্চিম দিকে বসে চণ্ডীমঙ্গল পাঠ শুরু করেন। এর কিছু সময়ের মধ্যে একটা বিকট শব্দ শুনে সবাই মন্দিরে ছুটে গিয়ে দেখেন মন্দিরের পশ্চিম দিকের দেওয়ালে ফাটল ধরেছে আর দেবীর ঘট কেউ যেন পশ্চিম দিকে মুখ করে বসিয়ে দিয়েছেন। এরপর কয়েকশো বছর কেটে গেলেও পুজোর ঘট পূর্বমুখী করে বসানোর চেষ্টা করেননি কেউ। আজও নরোত্তমের পরিবার নিয়ম করে পুজোর দিনগুলিতে চণ্ডীমঙ্গল পাঠ করেন।
সময়ের সঙ্গে রাজবাড়ি হারিয়ে গিয়েছে। টিকে রয়েছে প্রাচীন নাটমন্দির আর পুজো মণ্ডপ। পুজোকে ঘিরে আগের মতোই মেলা বসে এখনও।