Published on
:
2 min read
আগামী বছর দেশের চাকরিজীবীদের গড় বেতন বাড়তে চলেছে। বেতন গড়ে অন্তত ৯.১ শতাংশ বাড়তে পারে। সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় এমনটাই দাবি করা হয়েছে। বলা হয়েছে, চলতি অর্থবর্ষের শুরুতে দেশে চাকরিজীবীদের গড় বেতন গড়ে ৯ শতাংশ বেড়েছিল। পরের অর্থবর্ষে একই হারে গড় বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। বরং গতবারের চেয়ে তা সামান্য বেশি হওয়ারই সম্ভাবনা প্রবল। পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তি-টানাপড়েন এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে ‘মন্দা’র মধ্যেও এই রিপোর্ট যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।
রিপোর্টটি প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘এওন’। তারা ভারতের ৪৫টি শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত ১২০০টির বেশি সংস্থার তথ্য খতিয়ে দেখে এই রিপোর্ট তৈরি করেছে। রিপোর্টে দাবি, দেশে কেনাকাটার বহর বেড়েছে। ব্যবসায় নতুন নতুন বিনিয়োগ আসছে। বিদেশেও ভারতে তৈরি জিনিসের বিক্রি বাড়ছে। ফলে বিভিন্ন সংস্থার মুনাফাও বেড়েছে। যা কর্মীদের বেতনবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে।
আরও একটি কারণের উল্লেখ করেছে সমীক্ষক সংস্থাটি। তাদের বক্তব্য, বিভিন্ন কোম্পানির হাতে টাকা থাকলেও, অধিকাংশের ক্ষেত্রেই বড় সমস্যা দক্ষ কর্মী ধরে রাখা। সাম্প্রতিক কালে কর্মীদের এক কোম্পানি ছেড়ে অন্য কোম্পানিতে চলে যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। তাই ভালো এবং দক্ষ কর্মীদের যাতে অন্য কোম্পানি বেশি টাকার লোভ দেখিয়ে নিয়ে যেতে না পারে, তা আটকাতেও বহু কর্মীকে ভালো বেতন দিয়ে ধরে রাখার চেষ্টা করবে অনেক কোম্পানি।
তবে সব ধরনের চাকরিতেই সমান হারে বেতন বাড়ে না। রিপোর্টে দাবি, তিন ক্ষেত্রে বেতন সবচেয়ে বেশি বাড়তে পারে। ১. এনবিএফসি। অর্থাৎ ব্যাঙ্ক নয়, এমন আর্থিক সংস্থা যারা মূলত ঋণ দেওয়া বা ফাইন্যান্সের কাজ করে। এই সব সংস্থায় প্রায় ১০.১ শতাংশ হারে বেতনবৃদ্ধি হতে পারে। ২. বিদ্যুৎ বা জ্বালানির কারবার করা বিভিন্ন সংস্থায় বেতন বাড়তে পারে ৯.৯ শতাংশ। ৩. আবাসন ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাতেও ৯.৮ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
‘এওন’-র বিশেষজ্ঞ রূপাঙ্ক চৌধুরী বলেন, ‘সংস্থাগুলি এখন সকলের সমান হারে বেতন বাড়াচ্ছে না। তারা অনেক হিসেবি এখন। তারা দেখছে কোম্পানির জন্য কোন কর্মীর গুরুত্ব কতটা। যাঁদের বিশেষ দক্ষতা আছে, যাঁদের ছাড়া কোম্পানির কাজ চালানো মুশকিল, মূলত তাঁদের পিছনেই বেশি টাকা খরচ করা হচ্ছে।’
রিপোর্টে আরও দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপটে কর্মীদের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার হারও বাড়ছে। ২০২৪ সালেতা ছিল ১৭.১ শতাংশ। ২০২৫ সালে ১৬.২ শতাংশ। কিন্তু ২০২৬ সালে ১৮ শতাংশ কর্মী চাকরি ছেড়েছেন। এতেও বিভিন্ন সংস্থার চিন্তা বেড়েছে। এটিই বেতনবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে বলেই মনে করছে সমীক্ষক সংস্থা।
