যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যাশার চেয়ে মূল্যস্ফীতি বেশি হওয়ায় চলতি বছর সুদের হার আরও বাড়াতে পারে- বিনিয়োগকারীদের এমন আশঙ্কায় চলতি সপ্তাহেও স্বর্ণের বাজারে পতন দেখা গেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের (প্রতি আউন্স স্বর্ণ) দাম ০.১ শতাংশ কমে চার হাজার ১৬৫ দশমিক ১২ ডলারে স্থির হয়েছে। এর মাধ্যমে বিদায়ী সপ্তাহে মূল্যবান এই ধাতুটির দর ০.৭ শতাংশ হ্রাস পেল। খবর রয়টার্সের।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ডিসেম্বরের চুক্তিতে সরবরাহের জন্য ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স চার হাজার ১৮১ দশমিক ১০ ডলারে লেনদেন শেষ করেছে।
টিডি সিকিউরিটিজের কমোডিটি স্ট্র্যাটেজির বৈশ্বিক প্রধান বার্ট মেলিক জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেড পরবর্তীতে সুদের হার নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে স্বর্ণের বাজার একটি নির্দিষ্ট সীমার শেষ প্রান্তে এসে থমকে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদক পর্যায়ের মূল্যস্ফীতি বিগত সাড়ে চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। তার একদিন আগে প্রকাশিত ভোক্তা মূল্যসূচকও (সিপিআই) সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আভাস দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ও ক্লিল্যান্ডের ফেড প্রেসিডেন্টদের মতে, মূল্যস্ফীতির এই পরিসংখ্যান বেশ উদ্বেগের এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে ফেড সুদের হার আরও আগ্রাসীভাবে বাড়াতে পারে।
সিএমই-এর ‘ফেডওয়াচ টুল’ অনুযায়ী, চলতি মাসে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকলেও আগামী ডিসেম্বরে সুদের হার অন্তত একবার বাড়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিপরীতে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ মনে করা হলেও সুদের হার বাড়লে ব্যাংকে অর্থ রাখাই বিনিয়োগকারীদের কাছে বেশি লাভজনক মনে হয়, যা বন্ড বা স্বর্ণের মতো অনুৎপাদনশীল ধাতুর আকর্ষণ কমিয়ে দেয়।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও চলতি সপ্তাহে হ্রাস পেয়েছে। স্পট সিলভারের (রূপা) দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ০৫ ডলারে ঠেকেছে, প্লাটিনামের দাম এক হাজার ৬২৬ দশমিক ১৫ ডলারে প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.১ শতাংশ কমে এক হাজার ১১৩ দশমিক ৬১ ডলারে নেমে এসেছে।
