রাশিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। রাশিয়া থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমে আসায় বাজারে এ নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর পরপরই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ দশমিক ৮০ ডলারে নেমে আসে।
এর আগে রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উদ্বেগের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছিল। গত শুক্রবার লেনদেন শেষে অপরিশোধিত তেলের দাম গত ১৯ মে’র পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
তবে শুক্রবার একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের মাধ্যমে রাশিয়াসংশ্লিষ্ট কয়েকটি নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পরিকল্পনা স্থগিত করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্ধারিত সময়সীমার আগেই নেওয়া এ সিদ্ধান্তের ফলে রাশিয়ার রপ্তানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ এবং দেশটির জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রে সম্ভাব্য শাস্তিমূলক পদক্ষেপ কার্যকরের পরিকল্পনা থেকে সরে আসে মার্কিন প্রশাসন।
রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকটের উদ্বেগ তৈরি করেছিল। বাজারসংশ্লিষ্টদের ধারণা ছিল, নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হলে বিশ্ববাজারে রাশিয়ার তেল সরবরাহ কমে যেতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
এ আশঙ্কায় গত কয়েক দিনে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণায় সম্ভাব্য সরবরাহ সংকট নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। ফলে বাজারে তেলের দামেও এর প্রভাব পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পরিকল্পনা স্থগিত হওয়ায় আপাতত সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা কমার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে আগামী দিনগুলোতে তেলের দামের গতিপথ নির্ভর করবে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, উৎপাদন এবং বৈশ্বিক চাহিদার ওপর।
The post বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম appeared first on ভোরের চেতনা.
