জমানো ক্লান্তি দূর করতে আর মনের খোরাক মেটাতে রইল দারুণ ৬ বইয়ের গল্প।

৬ বইছবি : এআই
এমন কিছু বই থাকে, যেগুলো হাতে তুলে নিলেই চারপাশের দুনিয়াটা কেমন যেন মিলিয়ে যায়। কখনও চোখের সামনে ভেসে ওঠে বহু পুরোনো কোনও স্মৃতির রাস্তা, আবার কখনও গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে কোনও অচেনা রহস্যের গন্ধ পেয়ে। জমানো ক্লান্তি দূর করতে আর মনের খোরাক মেটাতে রইল দারুণ ৬ বইয়ের গল্প।
1. ঘষা কাচের জীবন — রণিত ভৌমিক
ঘষা কাচের জীবন — রণিত ভৌমিকছবি: সংগৃহীত।
শহরের ইট-কাঠের খাঁচায় প্রতিদিন তো কত প্রেম জন্ম নেয়, আবার কেমন নিঝুম রাতে ধুলোয় মিশে যায় কত সম্পর্ক! এই উপন্যাসে রণিত আমাদের নিয়ে যাবেন তেমনই এক চেনা-অচেনা বাস্তবতার মুখোমুখি। সাধারণ ঘরের ছেলে ঈশান। মনের কোণে তার কবি হওয়ার স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নকে ছুঁতে গিয়েই ভালোবাসার মানুষ নন্দিনী ধীরে ধীরে দূরে সরে যায় তার জীবন থেকে। আচ্ছা, নিয়তির এই গোলকধাঁধা পেরিয়ে ঈশান কি শেষ পর্যন্ত ফিরে পাবে নন্দিনীকে? নাকি বাকিদের মতো ওদের গল্পটাও হারিয়ে যাবে কোনও ঠিকানাহীন শূন্যতায়?
2. ঘরের মধ্যে ঘর — শংকর
ঘরের মধ্যে ঘর — শংকরছবি: সংগৃহীত।
পার্ক স্ট্রিট মানেই তো এক অন্য কলকাতা। সেই চেনা রাস্তার একটা সরু গলি, আর তার পাশেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা বিখ্যাত ‘থ্যাকারে ম্যানসন’— শংকরের এই বিশাল উপন্যাসের মূল মঞ্চ এটাই। এই বাড়ির একেকটা ঘরে বাস করে অদ্ভুত সব মানুষ। তাদের সুখ-দুঃখ, লজ্বা-দ্বিধা আর নগর জীবনের নানা টানাপড়েন মিলেমিশে এই সাড়ে আটশো পাতার উপন্যাস হয়ে উঠেছে বাংলা সাহিত্যের এক জীবন্ত দলিল। একবার এই ম্যানসনে ঢুকলে আর বাইরে বের হতে ইচ্ছে করবে না।
3. হিরের আংটি — শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
হিরের আংটি — শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ছবি: সংগৃহীত।
বাঁড়ুজ্যে নামটা শুনলেই বাড়ির বড়ো থেকে ছোট — সবার গলা দিয়ে আর কথা বের হতো না! এমন এক রাশভারী ও সৎ মানুষ ছিলেন তিনি। তবে তাঁর ছোট্ট নাতি হাবুলের সঙ্গে দাদুর সম্পর্কটা ছিল একটু অন্যরকমের। একদিকে যেমন ভয়, তেমনই আবার বুকভরা ভক্তি। দাদু তাকে শিখিয়েছিলেন মাথা উঁচু করে বাঁচতে। কিন্তু হঠাৎ করেই এক ঝড় এল তাদের পরিবারে! এক পুরোনো ঘটনার জেরে চোখের পলকে সব ধনসম্পত্তি বুঝি সব শেষ হয়ে যাওয়ার জোগাড়! তার পরে কী হলো হাবুলদের? চলুন, ঘুরে আসি সেই পাতাগুলো থেকে।
4. পদিপিসির বর্মিবাক্স — লীলা মজুমদার
পদিপিসির বর্মিবাক্স — লীলা মজুমদারছবি: সংগৃহীত।
ছোট্ট খোকা গিয়েছি কাকার বাড়ি। সেখানে তার সঙ্গে পরিচয় হয় অল্পবয়স্কা বিধবা পদিপিসির। পদিপিসির মুখে কত না জাদুকরি গল্প। কিন্তু সেবার এক বিপত্তি বাধল। পথে এক দস্যু হঠাৎ আক্রমণ বসল খোকার উপর। খুড়ো তো ভয় পেয়ে সেই ডাকাতকে একেবারে বহুমূল্য জিনিস ঘুষ দিয়ে দিল যাতে কথা বাইরে না যায়! আর পদিপিসি সেই সমস্ত দামি জিনিস লুকিয়ে ফেলল একটা বর্মিবাক্সে ভরে, একেবারে কোনও গোপন জায়গায়। পদিপিসির মৃত্যুর আগে পর্যন্ত কেউ জানতেও পারল না সেই বাক্স কোথায় গেল! বাড়ির সবাই হন্যে হয়ে খুঁজেও যখন হারাল দিশা, এমনকী প্রাইভেট গোয়েন্দাও যখন হাল ছেড়ে দিল— তখন কী ভাবে উদ্ধার হলো সেই রহস্যময় বাক্স? দারুণ এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা!
5. ভাসানবাড়ি — সায়ক আমান
ভাসানবাড়ি — সায়ক আমানছবি: সংগৃহীত।
আজ থেকে ঠিক দুশো বছর আগের কথা। এক জ্যোতির্বিজ্ঞানী বানিয়েছিলেন এক অদ্ভুত বাড়ি। তার আগে নাকি ওখানে একটা পুকুর ছিল, যেখান গ্রামের মানুষ ঠাকুর বিসর্জন দিত — নাম হয়েছিল ‘ভাসানপুকুর’, আর সেখান থেকেই ‘ভাসানবাড়ি’। লোকে মুখে ফেরে, ওই পুকুরের আত্মাই নাকি এখন বাসা বেঁধেছে এই ইঁটের গাঁথুনিতে! শশাঙ্কমোহন বলে গিয়েছিলেন, হ্যালির ধূমকেতুর মতো নির্দিষ্ট সময় পর নাকি এই বাড়িতেই ফিরে আসে কোনও মানুষ। কে সে? সময়ের নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কার অপেক্ষায় আজও দরজা খোলা রাখে এই বাড়ি?
6. কাউরীবুড়ির মন্দির — অভীক সরকার
কাউরীবুড়ির মন্দির — অভীক সরকারছবি: সংগৃহীত।
শখের আয়ুর্বেদ চিকিৎসক ভবতারণ চট্টোপাধ্যায়। একদিন হাতে এসে পৌঁছল এক অদ্ভুত প্রাচীন পুথি। তাতে লেখা আছে এমন এক ভেষজ ফুলের খোঁজ, যা মানুষের মন ও শরীরকে একেবারে বদলে দিতে পারে! ব্যস, সেই ফুলের টানে তিনি সোজা পাড়ি দিলেন উত্তর আসামের গভীর জঙ্গলে। আর অমনি জড়িয়ে পড়লেন এক মারাত্মক ষড়যন্ত্রের জালে। জঙ্গলের সেই অভিশপ্ত মন্দিরে কার দেখা পেলেন তিনি? দেওরি উপজাতির শত বছরের পুরোনো কোনও জাদুমন্ত্র কি লুকিয়ে আছে এর পিছনে? তিন মানুষের জীবনের ত্রিকোণ প্রেম আর অন্ধ বিশ্বাসের এক রুদ্ধশ্বাস গল্প।
