সংখ্যায় কম থাকায় পুলিশ সদস্যরা গোপালগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগ ও নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।
আজ রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে গতকাল শনিবার দুপুরে গোপালগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের সমর্থনে যুবলীগ ও নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের একটি মিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ হামলায় সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফুলমিয়াসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। আহত দুই পুলিশ সদস্যকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম এ তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
হামলার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যাপারটা আসলে তা না, এটা আমাদের নজরে এসেছে। গোপালগঞ্জ সদরের খেয়াঘাট এলাকায় নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ও তার সন্ত্রাসী সংগঠন খ্যাত ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের কিছু ছেলে মিছিল দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। টহলরত পুলিশ ওই জায়গায় যায়। তাদের সংখ্যা কম ছিল, যার জন্য তারা তাদের আক্রমণের শিকার হয়েছে। তাও আমরা ভিডিওটা দেখেছি। এর পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার গুঞ্জন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরাও শুনছি, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে বাংলাদেশে আসতে চান। তাকে ফেরত পেতে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবেশী দেশ ভারতের কাছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কয়েক দফা অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার।’
তিনি আরও বলেন, ‘অতীতের ফ্যাসিবাদী শক্তি শুরু থেকেই এ ধরনের অপপ্রয়াস চালিয়ে আসছে। তারা বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায় এবং ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। বাংলাদেশে কোনো অপশক্তি, পতিত শক্তি, ফ্যাসিস্ট, পলাতক অপরাধী বা গণহত্যাকারীকে অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের মুখে যারা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে এবং দেশের শত শত নাগরিককে হত্যা করেছে, তাদের কোনো অপতৎপরতা বাংলাদেশে চলতে দেওয়া হবে না।’
