অষ্টমীর অঞ্জলি দিয়ে পাত পেড়ে খিচুড়ি-লাবড়া, সঙ্গে বেগুনি বা আলুর দম। বিকেলে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে এগরোল, রাতে বাড়ি ফিরে মিষ্টিমুখ। বাঙালির দুর্গাপুজোয় এমন খাবারের টান এড়ানো কঠিন। কিন্তু সুগার বা প্রি-ডায়াবেটিস থাকলে পুজোর এই চেনা খাদ্যতালিকাতেই রাখতে হবে কিছুটা রাশ।
ভাত, আলু, মিষ্টি বা ভাজাভুজি বেশি খাওয়া, তার উপর অনিয়মিত সময়ে খাবার, সব মিলিয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হতে পারে। তা বলে কি পুজোয় পছন্দের খাবার একেবারেই বাদ? পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, খাবারের ধরন, পরিমাণ ও সময়ের দিকে নজর রাখলেই অনেকটা সতর্ক থাকা সম্ভব।
খিচুড়ি-লাবড়ায় জরুরি পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ
অষ্টমীর ভোগের খিচুড়ি বাঙালির পুজোর অন্যতম আকর্ষণ। কিন্তু খিচুড়িতে চালের পরিমাণ বেশি হলে তা রক্তে শর্করার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিমাণ বুঝে খান। সঙ্গে লাবড়া বা অন্যান্য সবজি রাখুন। শুধু খিচুড়ি খেয়ে পেট ভরানোর বদলে খাবারে প্রোটিনের উৎস রাখাও জরুরি। দই বা পনিরের মতো খাবার উপযুক্ত বিকল্প হতে পারে।

লুচি-আলুর দমে রাশ টানুন
পুজোর সকালে লুচি-আলুর দমের লোভ সামলানো মুশকিল। কিন্তু লুচি ভাজা খাবার, আর আলু শর্করাজাতীয় খাবার। তাই দু’টি একসঙ্গে বেশি পরিমাণে খেলে মোট শর্করা ও ক্যালরির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। লুচির সংখ্যা কমিয়ে, সঙ্গে উপযুক্ত প্রোটিন ও সবজি রাখা ভালো। উপোসের নামে সারাদিন শুধু আলু বা ময়দার তৈরি ভাজাভুজি এড়িয়ে চলাই ভালো।
রোল-চপ খেতে হলে?
ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে এগরোল, ফিশ ফ্রাই, কাটলেট বা চপ খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই। ডায়াবেটিস থাকলে রোজ ভাজাভুজি না খাওয়াই ভালো। পছন্দের খাবার খেলেও পরিমাণে সংযম রাখুন। সম্ভব হলে কম তেলে তৈরি খাবার বেছে নিন। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থেকে, পরে একসঙ্গে অনেকটা খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন।

মিষ্টিমুখেও চাই সতর্কতা
রসগোল্লা, সন্দেশ বা মিষ্টি দই ছাড়া অনেকের পুজো অসম্পূর্ণ। কিন্তু সুগার থাকলে মিষ্টি খাওয়ার পরিমাণ ও রক্তে শর্করার মাত্রা, দু’দিকেই নজর রাখা জরুরি। ‘চিনি কম’ লেখা থাকলেই কোনও খাবার সীমাহীন পরিমাণে খাওয়া যায় না। মিষ্টি খাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ মেনে চলুন।
পুজোর অনিয়মে বাড়ে ঝুঁকি
রাতভর ঠাকুর দেখা, দেরিতে খাওয়া বা সকালে প্রাতঃরাশ স্কিপ করা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে। বিশেষত ইনসুলিন বা রক্তে শর্করা কমানোর ওষুধ খেলে দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে শর্করা বিপজ্জনক মাত্রায় কমে যেতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের সময় ও ওষুধের নিয়ম বজায় রাখুন। নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ করবেন না বা মাত্রা বদলাবেন না।
মনে রাখবেন, পুজোর খাবার উপভোগ করার পাশাপাশি শরীরের যত্নও জরুরি। ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিস থাকলে পুজোর আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের সঙ্গে কথা বলে খাবারের পরিকল্পনা করুন। কারণ পুজোর আনন্দ বজায় রাখতে চাইলে পাতে কী থাকছে, তার পাশাপাশি কতটা খাচ্ছেন এবং কখন খাচ্ছেন, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।
