October 25, 2026, 9:11 pm
সোশ্যাল মিডিয়ায় দাদিমা ইনফ্লুয়েন্সারদের কাণ্ডেই মজেছে তরুণেরা, কারও কারও ফলোয়ার কোটি ছাড়িয়েছে
Reporter Name
- Update Time : Sunday, October 25, 2026
- 12 Time View
ডেস্ক রিপোর্ট: ডিজিটাল মাধ্যমের যুগে জনপ্রিয়তা অর্জন কেবল তরুণ প্রজন্মের জন্যই নির্ধারিত নয়, বরং বয়সের সীমানা ছাড়িয়ে প্রবীণ ব্যক্তিরাও এখন লাখ লাখ মানুষের নজর কাড়ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বর্তমানে এক অভিনব ট্রেন্ড লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে দাদি কিংবা নানি বয়সি নারীরা বিভিন্ন সৃষ্টিশীল কনটেন্ট তৈরি করে তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন। রান্নার ঘরোয়া কৌশল থেকে শুরু করে আধুনিক ফ্যাশন ট্রেন্ড কিংবা প্রাত্যহিক জীবনের নানা মজার মুহূর্ত শেয়ার করে তারা রাতারাতি ইন্টারনেটের সেনসেশন হয়ে উঠছেন। এই বয়স্ক কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের সাবলীল ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ডিজিটাল দুনিয়ায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
এই ধারার সবচেয়ে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলেন ৯৬ বছর বয়সী সামাজিক মাধ্যম ব্যক্তিত্ব গ্র্যান্ডমা দ্রোনিয়াক, যিনি তার অনন্য ও মজাদার ভিডিওর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তার অনুসারীর সংখ্যা এরই মধ্যে দেড় কোটির ঘর ছাড়িয়ে গেছে, যা অনেক তরুণ ইনফ্লুয়েন্সারকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে। তার মতো অন্যান্য প্রবীণ নারীরাও পিছিয়ে নেই এবং তারা ঘরোয়া জীবনযাত্রার নানা দিক তুলে ধরে ডিজিটাল দুনিয়ায় নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন। তাদের এই অভাবনীয় সাফল্য প্রমাণ করে যে, মেধা ও ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটানোর ক্ষেত্রে বয়স কেবলই একটি সংখ্যা মাত্র।
সামাজিক মাধ্যমে এই প্রবীণ ইনফ্লুয়েন্সারদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো তাদের খাঁটি ও ভনিতাভিন্ন আচরণ যা বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের গভীরভাবে আকর্ষণ করছে। তরুণ সমাজ আজকাল কৃত্রিমতার চেয়ে সহজ-সরল জীবনের গল্প দেখতে বেশি পছন্দ করে, আর এই প্রবীণ নারীরা তাদের দীর্ঘজীবনের অভিজ্ঞতা ও হাস্যরসের মাধ্যমে ঠিক সেই চাহিদাটুকুই পূরণ করছেন। তাদের শেয়ার করা রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন টিপস কিংবা জীবনের নানা ছোটোখাটো ঘটনা দর্শকদের মুখে হাসি ফোটানোর পাশাপাশি তাদের মনে এক ধরনের মানসিক প্রশান্তিও এনে দিচ্ছে। এর ফলে ভার্চুয়াল দুনিয়ায় এই বয়স্ক নারীরা কেবল অনুসারীই বাড়াচ্ছেন না, বরং বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে এক সুন্দর মেলবন্ধন তৈরি করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রবীণদের এই ডিজিটাল উত্থান সমাজে বার্ধক্য সম্পর্কিত প্রচলিত ধ্যান-ধারণা ও নেতিবাচক মনোভাব পরিবর্তনে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে। একসময় যেখানে বার্ধক্য মানেই নিভৃত জীবনযাপন কিংবা প্রযুক্তির সাথে দূরত্ব বোঝানো হতো, আজ সেখানে প্রবীণরা আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে বিশ্ববাসীর কাছে নিজেদের মেলে ধরছেন। এই জোয়ার প্রমাণ করে যে শেখার বা নতুন কিছু শুরু করার কোনো নির্দিষ্ট বয়স হয় না এবং ইচ্ছা থাকলে জীবনের যেকোনো পর্যায়ে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব। ভবিষ্যতে এই ট্রেন্ড আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং আরও অনেক প্রবীণ মুখ ডিজিটাল দুনিয়ায় নতুন অনুপ্রেরণা জোগাবেন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com


