সিলেট: সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়কের কেওয়াছড়া সেতু এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও শিশুর নির্মম মৃত্যুর পেছনে এবার সামনে এলো অবৈধ বাস চলাচলের গুরুতর অভিযোগ। দুর্ঘটনায় জড়িত ‘সাদাপাথর এক্সপ্রেস’ ব্যানারযুক্ত বাসটি তাদের নিজস্ব নয় বলে দাবি করেছে আসল ‘সাদাপাথর পরিবহণ কর্তৃপক্ষ’। মালিক সমিতির অভিযোগ—বারবার মৌখিক ও লিখিত আবেদন জানানো সত্ত্বেও রোডে অবৈধ ও পারমিটবিহীন এবং ফিটনেসবিহীন বাস চলাচল বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না, যার চরম মাশুল দিতে হলো নিরপরাধ দুই তাজা প্রাণকে।
রোববার (১১ অক্টোবর) সাদা পাথর পরিবহণের ম্যানেজার মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি তাদের প্রতিষ্ঠানটির মালিকানাধীন বা পরিচালিত নয়। অনলাইনে তাদের ব্যানার ব্যবহার করে চালিত অবৈধ বাসের দুর্ঘটনার দায় চাপানো ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। বিজ্ঞপ্তিতে নিহতের আত্মার মাগফিরাত ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে প্রকৃত তথ্য প্রকাশের অনুরোধ করা হয়।
অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিলেট, সালুটিকর, কোম্পানীগঞ্জ, ভোলাগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, হাদারপাড়, রাধানগর বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুবুল হক চৌধুরী। তিনি জানান, সমিতির অনুমতি ও বৈধ রোড পারমিট ছাড়া কিছু অসাধু পরিবহণ মালিক ভুয়া ব্যানার টাঙিয়ে এসব রুটে অবৈধভাবে বাস চালিয়ে আসছে। এসব অবৈধ গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ট্রাফিক ডিসিসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরে বারবার অভিযোগ ও আবেদন করেও কোনো সুরাহা মেলেনি।
মালিক সমিতির সভাপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রশাসনের নজরদারির অভাবে রোডে এসব অনুমোদনহীন গাড়ি চলায় যাত্রী সাধারণের জানমালের চরম ক্ষতি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। অসাধু চক্রের অবৈধ ব্যবসার বলি হতে হলো এক অসহায় মা ও তার নিষ্পাপ শিশুকে।’
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) সুদীপ্ত রায় বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সারাবাংলাকে বলেন, ‘সাদাপাথর এক্সপ্রেসের ব্যানারে অবৈধ বাস চলাচলের বিরুদ্ধে আমরা কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করতাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা বাস মালিক সমিতি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমে জানিয়েছে এটি তাদের বাস নয়—কিন্তু এখানে আমার একটি প্রশ্ন। আমরা বিভিন্ন সময়ে দেখেছি এক জায়গার বাস অন্য জায়গায় চলাচল করলে তারা পাগল হয়ে যায়, অথচ দীর্ঘদিন থেকে ‘সাদাপাথর এক্সপ্রেস’ নামের নকল ব্যানারে বাস বিনা অনুমোদনে সড়কে চলাচল করছে এ নিয়ে তাদের (বাস-মালিক) সমিতির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।’
এদিকে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করা হলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও হেলপার গাড়ি ফেলে পালিয়ে যান। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ইজিবাইক জব্দ করে থানার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পলাতক চালক ও হেলপারকে খুঁজছে পুলিশ। মামলার প্রক্রিয়াও চলছে।’
এ ছাড়া সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে অবাধে চলাচলকারী এসব অবৈধ, পারমিটবিহীন ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত করে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সচেতন যাত্রী সাধারণ।
উল্লেখ্য, গত রোববার সন্ধা ৭টার সময় সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়কের ধোপাগুলের কেওড়াছড়া এলাকায় ‘সাদাপাথর এক্সপ্রেস‘ নামের বাসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার যাত্রী এক নারী ও তার নয় মাস বয়সি মেয়ে নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন।
