রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনায় সর্বোচ্চ ৬০ দিন সময় নেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শনিবার (১৭ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ কথা জানিয়েছেন। এর আগের দিন রাশিয়ার রপ্তানিসংশ্লিষ্ট কিছু নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিত করে নির্বাহী আদেশে সই করেন ট্রাম্প। খবর রয়টার্সের।
মার্কো রুবিও বলেন, নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকরের ফলে যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে, তা মূল্যায়ন করতে চান প্রেসিডেন্ট। শুক্রবারের (১৬ অক্টােবর) আদেশে স্থগিতাদেশের মেয়াদ উল্লেখ করা হয়নি। তবে রুবিওর ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে চাপ বাড়াতে গত মাসে ‘গ্রাহাম অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত আইনে সই করেন ট্রাম্প। এ আইনের আওতায় রাশিয়ার পণ্যে শুল্ক আরোপের পাশাপাশি রুশ তেল ও গ্যাস আমদানিকারী দেশগুলোর পণ্যের ওপরও শুল্ক আরোপের বিধান রয়েছে। এসব ব্যবস্থা আগামী সপ্তাহে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
তবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে। নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এ পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়িয়েছে।
রাশিয়ার ওপর চাপ শিথিল করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার আশঙ্কা, এতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আরও উৎসাহিত হবেন এবং ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে পারে।
দক্ষিণ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ডারলিন গ্রাহামও সিদ্ধান্তটির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার ওপর চাপ অব্যাহত রাখাই তার পছন্দ। পুতিন ও রাশিয়ার ওপর তার আস্থা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে বৈশ্বিক জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ বাড়ানোর চুক্তিও সমর্থন করেছেন রুবিও। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। নভেম্বরে এবং পরবর্তী সময়েও চালান আসার কথা রয়েছে।
রুবিও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের সংঘাত এখন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে একে অপরের ওপর প্রভাব ফেলছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিভিন্ন দিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
