রাশিয়ার ভোরোনেজ অঞ্চলের একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে রাতভর হামলা চালিয়ে চারটি এসইউ-৩৪এম বোমারু বিমান ধ্বংস এবং আরও দুটি ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইউক্রেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এ তথ্য জানান। খবর কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্টের।
জেলেনস্কির দাবি, হামলায় রাশিয়ার বরিসোগলেবস্ক সামরিক বিমানঘাঁটিতে থাকা ছয়টি এসইউ-৩৪এম বোমারু বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে চারটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের জনগণের ওপর হামলা চালাতে এসব বিমান ব্যবহার করত। বিমানগুলো ইউক্রেনে নতুন করে হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত ছিল এবং সেগুলোতে আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বোমা সজ্জিত ছিল।
তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়া যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছে। তাই আমাদের দূরপাল্লার অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
ইউক্রেনের নৌবাহিনী টেলিগ্রামে জানায়, নেপচুন উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ব্যবহার করে এ হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, বিমানঘাঁটির ভেতরে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
রাশিয়ার ভোরোনেজ অঞ্চলের গভর্নর আলেক্সান্দর গুসেভ কয়েক দফায় ড্রোন হামলার সতর্কতা জারি করেছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণ করা এবং অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিওতে বিমানঘাঁটিতে বিস্ফোরণ ও বড় ধরনের আগুন দেখা গেছে। বিমানঘাঁটিটি যুদ্ধের সম্মুখসারির অবস্থান থেকে প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার বা ২৩০ মাইল দূরে অবস্থিত।
নেপচুন ইউক্রেনের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ভূমি থেকে নিক্ষেপযোগ্য জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এর পাল্লা কয়েক শ কিলোমিটার। ২০২২ সালের এপ্রিলে কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার প্রধান যুদ্ধজাহাজ ‘মস্কভা’ ডুবিয়ে দিতে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল ইউক্রেন।
২০২৫ সালে ক্ষেপণাস্ত্রটির উন্নত সংস্করণ প্রকাশ করে ইউক্রেন। ওই সংস্করণটির পাল্লা ইতিমধ্যে এক হাজার কিলোমিটার বা ৬২০ মাইল পর্যন্ত প্রদর্শিত হয়েছে। একই বছরের মার্চে জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থাটির পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য মোতায়েন করা হবে।
এসইউ-৩৪এম হলো রাশিয়ার এসইউ-৩৪ যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমানের আরও উন্নত সংস্করণ। ইউক্রেনীয় বাহিনী এর আগে রাশিয়ার বিভিন্ন সামরিক বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে এসব যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং কয়েকবার বিমান ভূপাতিত করার দাবিও জানিয়েছে।
