নাটোরের বাগাতিপাড়া পৌরসভার বিভিন্ন মহল্লায় মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে শেয়ালের অতর্কিত কামড়ে দুই নারীসহ ১১ জন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার পর থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার মধ্যে উপজেলার নওশেরা, বারইপাড়া, সোনাপাতিল, মালঞ্চি ও পেড়াবাড়িয়া মহল্লায় এই আতঙ্কজনক ঘটনাগুলো ঘটে। আকস্মিক এই বন্যপ্রাণীর হামলায় পুরো এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
আহতদের মধ্যে পূর্ব সোনাপাতিল এলাকার বাসিন্দা ইমরান আলী (৪২) জানান, তিনি সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে স্থানীয় বাজারের দিকে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি শেয়াল অতর্কিত তার পায়ে কামড় বসিয়ে দেয়। পরবর্তীতে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে পা ঝাঁকিয়ে তিনি প্রাণাণ্ট্রর চেষ্টা চালিয়ে শেয়ালের মুখ থেকে নিজের পা মুক্ত করেন। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তিনি দেখেন যে, একই সময়ে আরও আট থেকে দশজন ব্যক্তি শেয়ালের কামড় খেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আরেক ভুক্তভোগী মালঞ্চি এলাকার বাসিন্দা পলি খাতুন (১৮) জানান, তিনি নিজ বাসা থেকে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসার ঠিক প্রাক্কালে হাসপাতালের প্রধান গেটের সামনে পৌঁছামাত্র একটি শেয়াল তাকে পেছন থেকে আক্রমণ করে কামড়ে আহত করে। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। এছাড়া পৌরসভার সোনাপাতিল এলাকার বাসিন্দা আকরামুল হক (৫২) বাড়ি ফেরার পথে গেট খোলার সময় এবং মাইনুল ইসলাম নামের আরেক ব্যক্তি বাজার যাওয়ার পথে একই ধরনের আকস্মিক শেয়ালের আক্রমণের শিকার হন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শামুন আল হাসান সৌমিক জানান, বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে শেয়ালের কামড়ে আহত প্রথম রোগী জরুরি বিভাগে আসেন। এরপর একে একে আরও ১০ জন রোগী হাসপাতালে ছুটে আসেন। মাত্র এক ঘণ্টার স্বল্প ব্যবধানে মোট ১১ জন আহত ব্যক্তি হাসপাতালে এসে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
ডা. শামুন আল হাসান সৌমিক আরও জানান, শেয়ালের বা যেকোনো বন্যপ্রাণীর কামড়ের শিকার হলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমে ক্ষতস্থানটি সাবান ও প্রচুর পরিমাণে প্রবহমান পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ধরে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। পাশাপাশি, কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিরেবিস বা জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি। তবে হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক মজুত রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। এদিকে বারবার এমন বন্যপ্রাণীর লোকালয়ে হানা দেওয়া ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী দ্রুত শেয়াল নিধন বা বন বিভাগের হস্তক্ষেপে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
