The Sangbad · অর্থনীতি
‘আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য আনতে ওয়াশিংটনের প্রতি জোরালো আহ্বান’
১৪/১০/২০২৬

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চলমান আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভায় মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার নানা দিক তুলে ধরেছেন।বৈঠকে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান। বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার বড় ধরনের চুক্তি করার পাশাপাশি দেশটি থেকে জ্বালানি তেল, গম ও বিভিন্ন নিত্যপণ্যের আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দিয়েছে।এ প্রেক্ষাপটে অর্থমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন, বাংলাদেশের এই ইতিবাচক পদক্ষেপের বিপরীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এখন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহায়তা আরও বাড়ানো উচিত।বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি বা আমদানি-রপ্তানির পার্থক্য কমানোর ওপর জোর দিয়ে আসছে। আমরা তাদের কথা বিবেচনা করে এতগুলো বোয়িং উড়োজাহাজ কিনছি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিও ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে চলেছি। এমতাবস্থায় তাদের দিক থেকেও যথেষ্ট সহায়তা আসা উচিত এবং এ বিষয়ে বৈঠকে তারাও নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছে। আমরা তাদের কাছে খুব স্পষ্ট ভাষায় জানতে চেয়েছি যে, বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ক যখন একটি অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং আমরা যখন মার্কিন বাজার থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে উড়োজাহাজ ও নিত্যপণ্য কিনছি, তবে এখন যদি এই সহায়তা না আসে তবে তা আর কখন আসবে?উল্লেখ্য, গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের শুরু করা বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধের বিরূপ প্রভাব পড়েছিল বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও। এরপর ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন শুল্ক আরোপের চাপ সফলভাবে সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন পণ্যের আমদানি বাড়ায় সরকার। এর অংশ হিসেবেই সম্প্রতি দুই ধাপে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি আধুনিক উড়োজাহাজ কেনার ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।গত ৩১ আগস্ট হোয়াইট হাউজ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো একটি বিশেষ চিঠিতে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের জন্য তাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন যে, বোয়িং আপনাকে কখনো হতাশ করবে না। এই সামগ্রিক কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সাফল্যের ধারাবাহিকতায় মার্কিন প্রশাসন এখন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় আরও সহযোগিতামূলক মনোভাব দেখাবে বলে জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗