প্রতিমন্ত্রী বলেন, মসলিনের ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে এর বিকাশ ঘটানো এবং দেশী-বিদেশী বাজারে ছড়িয়ে দেয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। গবেষকরা যাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা পান এবং নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন, সে জন্য সরকার ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
ঢাকাই মসলিনের টেকসই উৎপাদন ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে ফুটি কার্পাস তুলা নিয়ে গবেষণায় সর্বোচ্চ আর্থিক ও আনুষঙ্গিক সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। একই সঙ্গে পুনরুদ্ধার করা মসলিন তৈরির প্রযুক্তি দ্রুত বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড আয়োজিত ‘ঢাকাই মসলিন তৈরির কাঁচামাল ফুটি কার্পাস তুলার জাত উন্নয়ন সংক্রান্ত সেমিনারে’ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
শরীফুল আলম বলেন, ঢাকাই মসলিন বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাস ও বস্ত্র ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন। বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের গবেষণায় ইতিমধ্যে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ করে ফুটি কার্পাস তুলার জাত, জিনগত বৈশিষ্ট্য ও আঁশের গুণগত মান নিয়ে চলমান গবেষণা মসলিনের টেকসই উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, এখন পুনরুদ্ধার করা মসলিন তৈরির প্রযুক্তি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া জরুরি। দক্ষ তাঁতি, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করা গেলে মসলিনের বাণিজ্যিক উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে। এর স্বকীয়তা ও গুণগত মান বজায় রেখে উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও রফতানি করা গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি বাড়বে বৈদেশিক মুদ্রা আয়, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ফুটি কার্পাস ও মসলিন নিয়ে গবেষণার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ গবেষণার অগ্রগতি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় থেকে গবেষণার জন্য সর্বোচ্চ আর্থিক ও আনুষঙ্গিক সহযোগিতা দেয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, মসলিনের ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে এর বিকাশ ঘটানো এবং দেশী-বিদেশী বাজারে ছড়িয়ে দেয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। গবেষকরা যাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা পান এবং নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন, সে জন্য সরকার ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
তাঁতশিল্পের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন শরীফুল আলম।
তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ খাতের উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপিত হয়। প্রান্তিক তাঁতিদের আর্থিক সহায়তা দিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার তাঁত ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁতিদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং উৎপাদনে সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আরো বলেন, ফুটি কার্পাসের গবেষণা, মসলিন তৈরির প্রযুক্তি হস্তান্তর, তাঁতিদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর বিপণনব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রপণ্যের স্বকীয়তা বজায় রাখার পাশাপাশি এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান বাড়াতে হবে।
গবেষক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি দেয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। বিশেষজ্ঞদের গবেষণা, মতামত ও পরামর্শ ঢাকাই মসলিনের বিকাশে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন এবং মিসরের কটন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তুলা প্রজননবিষয়ক প্রধান গবেষক ড. আহমেদ মোহাম্মদ আবদেলমোঘনি আবদুলবাকি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দেশী-বিদেশী গবেষক, বিজ্ঞানী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
