কাগজে দেড় কোটি টাকার কাজ হলেও বাস্তবে তা দেখাতে পারেননি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ নিয়ে স্টার নিউজে সংবাদ প্রচারের পর সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
পাউবোর মহাপরিচালক রুহুল আমিনের নির্দেশে জনসংযোগ পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আব্দুল মতিনকে প্রধান করে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। রাজশাহী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীকে কমিটির অপর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়।
২০২২-২৩ অর্থবছরে কোয়ার্টার মেরামতের নামে চার লাখ ৫০ হাজার, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১০ লাখ, একই কাজ দেখিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১২ লাখ, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৮ লাখ, আবার ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৪ লাখ ৫০ হাজার, দেওয়াল রংসহ দপ্তর মেরামতের নামে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২০ লাখ ৪৯ হাজার, রেইনকার্ট মেরামতসহ স্যানিটারি মালামাল স্থাপনের জন্য ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২১ লাখ ৭৬ হাজার, একই কাজ দেখিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আবারও রেইনকার্ট মেরামতসহ ভূ-সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ ও কোয়ার্টারের স্থাপনা মেরামতের নামে ৩১ লাখ ৮৯ হাজার টাকার বিল-ভাউচার করে টাকা উত্তোলন করা হয়। এভাবে ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে কোনো কাজ না করেই এক কোটি ৫৩ লাখ ১৪ টাকার বিল তুলে নেয়া হয়।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলোনীতে সরেজমিন চিত্র অন্যরকম। টিন ভেঙ্গে কলোনীর ঘরবাড়ীর চালের ফাঁক দিয়ে আকাশ দেখা যায়। বাসিন্দারা জানান, বৃষ্টি এলেই ভিজে যায় ঘরের মেঝে। জরাজীর্ন টিন, শ্যাওলা ধরা পুরোনো দেয়াল। মাঝে মাঝে খসে পড়ে পলেস্তারা। গাইবান্ধায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলোনীতে এভাবে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের দাবী বরাদ্দ না থাকায় নিজের টাকায় মেরামত করতে হয় এসব বাসা-বাড়ি।
কেবল কাগজপত্রেই সীমাবদ্ধ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলোনী মেরামতসহ বিভিন্ন সংস্কারের দেড় কোটি টাকার কাজ। কোন কোন ঠিকাদার কাজ করেছেন- তাও জানাতে রাজি হননি গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম, কোথায় কি কি কাজ হয়েছে দেখতে চাইলেও এড়িয়ে যান তিনি।
অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য বলছে, ২০২২-২৩ থেকে ২৫-২৬ প্রতি অর্থ বছরে কলোনীর বাসা-বাড়ী মেরামত করা হয়েছে। খরচের খাতায় দেখা যায়, জঙ্গল পরিষ্কার, কলোনী, দপ্তর ভবন, পানির লাইনসহ বিভিন্ন সংস্কার কাজে ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়। কোথায় হলো এতো টাকার কাজ- দেখাতে পারলেননা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
কোন কোন জায়গায় সংস্কার কাজ হয়েছে- দেখাতে পারেননি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম। এমনকি কোন কোন পত্রিকায় কবে দরপত্র আহবান করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় তাও বলতে পারেননি, কোন ঠিকাদার বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম বা কোন তথ্যই দিতে পারেননি তিনি।
২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর থেকে গাইবান্ধায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করছেন শরিফুল ইসলাম। এর আগে একই পদে দায়িত্বে ছিলেন হাফিজুল হক, যিনি বর্তমানে রংপুরে প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে কর্মরত।
