আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক নিয়ে ভারতের উদ্বেগ প্রশমনের চেষ্টা করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেছেন, বিশ্বের অন্য কোনো দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষতি বা বিনিময়ে গড়ে উঠবে না।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও এসব কথা বলেন। ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার ভারতের মুম্বাইয়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারটি বুধবার প্রকাশিত হয়।
১৯৭০-এর দশকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জারের সময়কার দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক নীতির সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা প্রসঙ্গে রুবিও বলেন, সে সময়ের সঙ্গে বর্তমান বিশ্বের অনেক পার্থক্য রয়েছে। তখন স্নায়ুযুদ্ধসহ বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক সমীকরণ ছিল, যা এখন আর আগের অবস্থায় নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের বিষয়ে তিনি বলেন, অন্য কোনো দেশের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষতি করবে না। ভারত সফর, বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের প্রতিশ্রুতি, দুই দেশের যৌথ কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সহযোগিতাকে এর প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে রুবিও বলেন, ‘পাকিস্তান এমন একটি দেশ, যার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক রয়েছে এবং সম্পর্ক রাখাটা জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমরা যদি ইতিবাচক উপায়ে আমাদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে এমন কোনো পদক্ষেপ নিরুৎসাহিত করতে পারি যা সম্ভাব্য সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে, তবে তা ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।’
রুবিওর মতে, পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখলে ভারত যে ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বিগ্ন, সেগুলো নিরুৎসাহিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ভূমিকা রাখতে পারে। পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী দেশ এবং ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনে রাশিয়ার চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা নিয়েও কথা বলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। যুদ্ধ অবসানের পথে নানা জটিলতার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘বিষয়গুলো বেশ জটিল এবং এটি যদি সমাধান করা সহজ কোনো যুদ্ধ হতো, তবে অনেক আগেই এর সমাধান হয়ে যেত।’
এটিভি/এসআইআর
