ঋতু পরিবর্তনের সময় শিশুদের ঠাণ্ডা, সর্দি ও জ্বর হওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এগুলো ভাইরাল ইনফেকশনের কারণে হয়ে থাকে এবং সাধারণত ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে আপনাআপনি ভালো হয়ে যায়। তবে শিশুর এই অসুস্থতার দিনগুলোতে সঠিক যত্ন এবং সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।
ঘরোয়া যত্ন ও পরিচর্যা: শিশুর জ্বর বা ঠাণ্ডা লাগলে আতঙ্কিত না হয়ে ঘরেই কিছু প্রাথমিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে। তা হলো-
শরীর মোছানো: ঠাণ্ডা পানি বা বরফ পানি ব্যবহার না করে কুসুম গরম পানি দিয়ে শিশুর পুরো শরীর ভালো করে মুছে দিন। কপালে জলপট্টি দিতে পারেন।
পর্যাপ্ত তরল খাবার: শরীর যাতে ডিহাইড্রেটেড বা পানিশূন্য না হয়ে পড়ে, সে জন্য বারবার তরল খাবার দিন। শিশুকে বুকের দুধ, ওআরএস, ডাবের পানি, কিংবা স্যুপ খাওয়ানো যেতে পারে।
হালকা পোশাক: জ্বর হলে শিশুকে ভারী কম্বল বা বেশি কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখবেন না। এতে শরীরের তাপমাত্রা আরও বেড়ে যায়। তাকে হালকা ও নরম সুতির পোশাক পরিয়ে রাখুন।
নাক পরিষ্কার রাখা: নাক বন্ধ থাকলে শিশু খেতে বা ঘুমাতে পারে না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নরমাল স্যালাইন ড্রপ দিয়ে নাক পরিষ্কার করে দিন।
আরামদায়ক পরিবেশ: ঘরের তাপমাত্রা যেন অতিরিক্ত গরম বা ঠাণ্ডা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন (১৮ক্ক-২৫ক্ক সেলসিয়াস ভালো)। ঘরে যেন পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে। মায়ের দুধের পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে। শিশুদেরও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকে। এই সময়ে শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা যাতে বাড়ে, সে জন্য তাদের পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। শিশুর বয়স যদি ছয় মাসের কম হয়, তাহলে মা যেন বেশি বেশি পুষ্টিকর খাবার খান। শিশুকে অবশ্যই বুকের দুধ পান করাবেন। আর শিশুর বয়স ছয় মাসের বেশি হলে বুকের দুধের পাশাপাশি অন্য খাবার সঙ্গে দেবেন। শিশুদের এই সময়ে খিচুড়ি, আলু ও ডিমের কুসুম খাওয়ানো যেতে পারে।
সতর্ক থাকতে হবে: ভাইরাল জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো ভূমিকা নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুকে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক বা কাশির সিরাপ দেবেন না। এ ছাড়াও মধু ব্যবহারে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। শিশুর বয়স এক বছরের কম হলে তাকে ভুলেও মধু খাওয়াবেন না। এতে ‘ইনফ্যান্ট বটুলিজম’ নামের মারাত্মক রোগ হতে পারে। শিশুদের জ্বরের জন্য কখনই অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করবেন না।
যখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে: যদি নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে দ্রুত শিশুকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবেন—
শিশুর বয়স ৩ মাসের কম এবং শরীরের তাপমাত্রা ১০০.৪ক্ক ফারেনহাইট (৩৮ক্ক সে.) বা তার বেশি হলে। তীব্র শ্বাসকষ্ট হলে, বুক দেবে গেলে বা ঘন ঘন শ্বাস নিলে। শিশু যদি একদমই খেতে না চায় এবং প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়। অতিরিক্ত মাত্রায় জ্বর (১০২ক্ক ফারেনহাইটের বেশি) এবং সঙ্গে খিঁচুনি হলে। শিশু যদি মাত্রাতিরিক্ত ঝিমিয়ে পড়ে এবং তাকে স্বাভাবিকভাবে জাগানো না যায়। আপনার শিশুর বর্তমান বয়স কত এবং তার শরীরের তাপমাত্রা (জ্বর) কত ডিগ্রি ফারেনহাইট, তা জানালে আরও নির্দিষ্ট পরামর্শ দেওয়া সম্ভব। এ ছাড়া তার কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো অন্য কোনো লক্ষণ আছে কি না।
লেখক: সাংবাদিক
কেএমএএ/আপ্র/১৯.১০.২০২৬
