টঙ্গীতে শিশুর প্রতি অশালীন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষককে মারধরের ঘটনায় জড়িত অভিভাবকদের নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাফেজ ক্বারী জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ। সেই সঙ্গে মারধরের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাওয়ার পাশাপাশি তিনি বলেছেন, এতে বামপন্থিরা জড়িত।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ভিডিও পোস্ট করে তিনি এমন দাবি করেন।
ভিডিওর ক্যাপশনে জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ লেখেন, ‘টঙ্গীর ঘটনার সাথে জড়িত বামপন্থিরা।’ যদিও এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর কিছু বলেননি তিনি। দাবির ব্যাপারে কোনো প্রমাণও তুলে ধরেননি।
জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ ধর্মীয় বক্তা হিসেবে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ঘটনায় নিজস্ব মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন তিনি। প্রায়ই তার বক্তব্য আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় পাইওনিয়ার নিট কম্পোজিট ফ্যাক্টরির পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে আগুন দিয়ে হত্যার সময় ফেসবুকে এই ঘটনার পক্ষে বেশ সরব ছিলেন জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ। অবশ্য পরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার পর তীব্র সমালোচনার মুখে তিনি তার পোস্ট সরিয়ে নেন।
টঙ্গীর মাদ্রাসাশিক্ষককে চড়কাণ্ড নিয়েও ফেসবুকে তিনি বেশ সরব। ভিডিওতে এই ইসলামী বক্তা বলেন, টঙ্গীতে এক ঘটনা ঘটল। একজন আলেম, একজন কোরআনের শিক্ষক, তাকে একজন বেধড়ক পেটাল। এরপরে হুজুর অসুস্থ হয়ে গেল, আর কিছু জনগণ বাহাবা দিচ্ছে। বিষয়টা কী ছিল? একটা ছোট্ট মেয়েকে সে একটা চুমু দিছে, নাকি একটু কোলে নিছে- এটাই ছিল তার দোষ। বলতেছে, ‘ধর্ষণ কইরা ফেলাইছে!’ ধর্ষণ করে ফেলছে, এটা করছে, ওটা করছে- আরে প্রমাণ দেখান!
জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ বলেন, ওই অভিভাবক মিডিয়ার সামনে বলল, ‘হুজুরগুলা এমনই হয়, নাউজুবিল্লাহ’। তার মানে আলেমদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই তার মনে ছিল বুকভরা ঘৃণা। তার মনের ভেতরে আগে থেকেই ছিল নেফাকি। আলেমের গায়ে হাত তুলে সে আইনকে হাতে তুলে নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যদি কোনো হুজুর যদি মাদ্রাসায় বলাৎকার করে, তাকেও কুকুরের মতো পিটানো দরকার। মাদ্রাসায় যদি একজন হুজুরের কারণে সমস্ত হুজুরের বদনাম হয়, ওই হুজুরের শাস্তি আমরা অবশ্যই চাই। সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে।
এদিকে শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ফেসবুকে দেওয়া আরেক পোস্টে তিনি বলেন, ‘নাবালক ছোট বাচ্চাকে চুমু দেওয়া ১০০ বার জায়েজ। তবে খারাপ উদ্দেশ্যে নয়।’
প্রসঙ্গত, গাজীপুরের টঙ্গীতে ছয় বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রিন্সিপালকে চড় মারার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
টঙ্গীর আউচপড়া এলাকার করিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার শিক্ষকের নাম মুসলেউদ্দিন, যিনি ওই মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল।
শিশুটির পরিবার জানায়, ঘটনাটির পর থেকেই শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে চাচ্ছিল না। পরিবার থেকে কারণ জানতে চাইলে ভীতি ও হুমকির কারণে সে শুরুতে কিছু বলতে চায়নি। পরে পরিবারকে সে জানায়, ঘটনার কথা প্রকাশ করলে তাকে মারধর করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদের মুখে শিশুটি পুরো ঘটনা খুলে বলে।
শিশুটির মুখে সব শোনার পর তার অভিভাবক বুধবার দুপুরে সরাসরি মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে অভিযুক্ত শিক্ষক অশালীনভাবে স্পর্শ করার কথা স্বীকার করছেন। এ সময় ক্ষুব্ধ হয়ে শিশুটির অভিভাবক ওই শিক্ষককে চড় মারেন।
