দক্ষিণ এশীয় পর্যটন পুরস্কারে সাইমানের ৩ সম্মাননা
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২২ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->দক্ষিণ এশীয় পর্যটন পুরস্কার (সাটা) ২০২৬-এ তিনটি সম্মাননা অর্জন করেছে বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান সাইমান। এর মধ্য দিয়ে টানা অষ্টম বছরের মতো এ পুরস্কার অর্জনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মালদ্বীপের মালে শহরে আয়োজিত সাটা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সাইমানের পক্ষে পুরস্কারগুলো গ্রহণ করেন প্রতিষ্ঠানটির ক্লাস্টার জেনারেল ম্যানেজার পুবুদু ফার্নান্দো।
এবার সাইমান পেয়েছে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় রিসোর্ট ও হোটেল ব্র্যান্ডের পুরস্কার। এ ছাড়া সাইমান বিচ রিসোর্ট পেয়েছে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সমুদ্রসৈকত হোটেল ও রিসোর্ট এবং সাইমান হেরিটেজ পেয়েছে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ঐতিহ্যবাহী হোটেল ও রিসোর্টের স্বীকৃতি।
আরও পড়ুন
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ১৯৬৪ সালে যাত্রা শুরু করা সাইমান ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের আতিথেয়তা শিল্পে কাজ করছে। কক্সবাজারে অবস্থিত সাইমান বিচ রিসোর্ট আধুনিক সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক অবকাশযাপনের অভিজ্ঞতা দেয়। অন্যদিকে, সাইমান হেরিটেজ প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার বহন করছে।
সাইমান বিচ রিসোর্ট ও সাইমান হেরিটেজের ক্লাস্টার জেনারেল ম্যানেজার পুবুদু ফার্নান্দো বলেন, ‘এই অর্জন আমাদের দলের প্রতিটি সদস্যের সম্মিলিত সাফল্য। পারস্পরিক সহযোগিতা, নিষ্ঠা ও দলগত কাজের ফলেই এ স্বীকৃতি অর্জন সম্ভব হয়েছে। আমাদের সহকর্মী, অতিথি, ব্যবসায়িক অংশীদার ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ পুরস্কার ভবিষ্যতে আরও উন্নত সেবা দেওয়া এবং সাইমানের ঐতিহ্য সংরক্ষণে অনুপ্রেরণা জোগাবে। বাংলাদেশের আতিথেয়তার উষ্ণতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতেও আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অতিথিসেবার মান উন্নয়ন, আতিথেয়তায় উৎকর্ষ বজায় রাখা এবং বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
তারেকুর রহমান/তামান্না রুপা
আরও পড়ুন
বাগেরহাটে নারী চিকিৎসককে হেনস্তা করার অভিযোগ সাবেক শ্রমিক দল নেতার বিরুদ্ধে
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৪ এএম
ভিডিও থেকে সংগৃহীত
-->বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে রাতে দায়িত্বরত চিকিৎসক সাকিয়া হককে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে সাবেক শ্রমিক দল নেতা ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে।
রবিবার (১১ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ওই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন ডায়ানা অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত ডা. সাকিয়া হক। সেখানে তিনি লিখেন, ‘বাগেরহাটে শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শানু নাকি হারুন সঠিক জানি না। তিনি এসে শুধু আমার গায়ে হাত দেওয়া বাকি রাখছে নাইট ডিউটিতে। আমি একা রুমে। ৮-১০ জন সাঙ্গোপাঙ্গ এসেছে আমার দিকে তেড়ে আসেন, কারণ একটাই, আমাদের ওয়ার্ড বয় ক্যানোলা মিস করছে।’
আরও পড়ুন
এরপরই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। চিকিৎসক সাকিয়া হক বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার। স্থানীয় এক সাবেক শ্রমিক দল নেতার লোকজনে ক্যানোলা পড়ানোকে কেন্দ্র করে ওই নারী চিকিৎসকে তার কক্ষে ঢুকে গালাগাল ও মারধর করতে তেড়ে আসেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। হাসপাতালের রেজিস্টার অনুযায়ী, ওই রোগীর নাম শানু।
বাগেরহাট পৌর শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম ভূঁইয়া ওরফে সেলিম ভূঁইয়া বলেন, `বর্তমানে বাগেরহাটে শ্রমিক দলের কোনো কমিটি নেই। আবু হানিফ শ্রমিক দলের জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও প্রস্তাবিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক।'
ডা. সাকিয়া হক বলেন, `গতকাল রবিবার দুপুর আড়াইটা থেকে সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আমার ডিউটি ছিল। ওই সময়ে ২৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে আমিই একমাত্র চিকিৎসক ছিলাম। রাত ১২টার দিকে বুকে ও পেটে ব্যথা নিয়ে এক রোগী হাসপাতালে আসেন। প্রথমে তার ইসিজি (ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম) করা হয়। পরীক্ষা ও রক্তচাপসহ অন্যান্য শারীরিক লক্ষণ পর্যবেক্ষণে তাৎক্ষণিকভাবে হৃদ যন্ত্রের কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। পরে গ্যাসের সমস্যার জন্য ইনজেকশন দেওয়ার পরামর্শ দিই। ইনজেকশন দেওয়ার জন্য রোগীর শরীরে ক্যানোলা পরাতে গিয়ে প্রথমবার ব্যর্থ হন সংশ্লিষ্ট ইন্টার্ন চিকিৎসক। দ্বিতীয়বারও একজন ওয়ার্ড বয় চেষ্টা করেন এবং ব্যর্থ হন। এতে রোগীর স্বজনরা মারমুখি হয়ে ওঠে। পরে ক্যানোলা পড়ানোর দায়িত্বরতরা শিশুবিভাগের নার্সদের ডাকতে যান। কারণ তারা বেশ অভিজ্ঞ ক্যানোলা পড়ানোর বিষয়ে। এর মাঝেই রোগীর সঙ্গে আসা ব্যক্তিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তারা আমার কক্ষে ঢুকে গালাগাল শুরু করেন এবং বারবার মারতে তেড়ে আসেন।'
ডা. সাকিয়া হক আরও বলেন, ‘রোগীর সঙ্গে আসা সাঙ্গপাঙ্গরা (লোকজন) বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন। তারা আমার কক্ষে ঢুকে গালাগাল করেন। বারবার তেড়ে আসেন। তারা গায়ে হাত দেননি, দিতে পারেননি। তবে পরিস্থিতি এমন ছিল যে, তারা গায়ে হাত যেকোনো সময়ে দিয়ে ফেলতেন। হয়তো আমি মহিলা বলেই দেননি। চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে হাসপাতালের কর্মী ও অন্য রোগীর স্বজনেরা এগিয়ে আসেন।’
একই সঙ্গে কাজের পরিবেশ ও পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন ডা. সাকিয়া হক। তিনি বলেন, ‘রোগীকে ইনজেকশন দিয়ে ২০ মিনিট পর্যবেক্ষণে রাখতে বলা হয়েছিল। ক্যানোলা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় মিস হতে পারে। সেখানে অনেক মানুষের ভিড়ও বাড়তি চাপ তৈরি করে। রোগীর সঙ্গে আসা লোকদের কথা ছিল, আমাকে ক্যানোলা করাতে হবে। অনেক রোগীর চাপ ছিল। ফলে এখানে বাস্তবতা হলো একজন চিকিৎসকের পক্ষে সব কিছু করা সম্ভাব না। তাছাড়া এখানে দায়িত্বে থাকা নার্স, ওয়ার্ডবয়রাও অনেক অভিজ্ঞ। কিন্তু যাই হোক তারা চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে গালাগাল ও মারতে আসতে পারেন না।'
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, `বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে এটা নতুন নয়। এর আগেও এ ধরণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় আমরা মর্মাহত। কোনো হাসপাতালেই এই পরিবেশ মেনে নেওয়া যায় না। হাসপাতালে পাঁচশ এর উপরে রোগী ভর্তি। কিন্তু কর্মী আছে পদের ৩ ভাগের এক ভাগ। তার মাঝেও সবাই সেবা দিতে চেষ্টা করছেন। এমন ঘটনা দুঃখজনক। তবে দুপুর পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানায়নি।'
শ্রমিকদল নেতা সেলিম ভূঁইয়া বলেন, ‘ব্যাপারটা আসলে তো যেভাবে ফলাউ হইছে, ওরকম না। ওতো দলীয়ভাবে যায়নি। একটা নার্স ছয় জায়গা ফুটো করেছে। পরে ডাক্তারকে ক্যানোলা করে দেওয়ার কথা বললে তিনি বলেন, এটা আমার কাজ না। উনিও ত্যাড়া ত্যাড়া কথা বলেছে। এ জন্য একটু বাগবিতণ্ডা হয়েছে।'
বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন বলেন, এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাহিদ ফরাজী/খাদিজা রুমি/
আরও পড়ুন
ফরিদপুর মেডিকেলে অচল ক্যাথল্যাবে ৯ কোটির বিল, অভিযান দুদকের
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪১ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় দশ বছর ধরে ৯ কোটি টাকার ক্যাথল্যাব যন্ত্র চালু না করেই ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করার জালিয়াতির সত্যতা পেয়ে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে অভিযান চলমান রয়েছে।
অভিযানে ফরিদপুর জেলা সমন্বিত দুর্নীতি দমন কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজের নেতৃত্বে আট সদস্য অংশ নেন। অভিযানকালে বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন তারা। এ সময় অনেক রোগী ও স্বজনেরা হয়রানি ও দুর্ব্যবহারেরও অভিযোগ তুরে ধরেন। বিভিন্ন অভিযোগের মধ্যে হাসপাতালে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে না পারা, টাকা ছাড়া ট্রলি না পাওয়া, চিকিৎসক না পাওয়া, ওষুধ না পাওয়া সহ নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন
এ ছাড়া দুদক টিম হাসাপাতালের বিভিন্ন সময়ের মালামাল ক্রয়ের নথি পর্যবেক্ষন করেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন যাবৎ পড়ে থাকা মূল্যবান বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময়ে হাসপাতালটির কার্ডিওলজি বিভাগের ৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা মূল্যের ক্যাথল্যাব যন্ত্র পড়ে থাকার বিষয়ে খোঁজ খবর নেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে কার্ডিওলজি বিভাগের ক্যাথল্যাব মেশিনটি ফিলিপস ইলেকট্রনিকস বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে ক্রয় করা হয়। যেটি ২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারিতে হাতে পান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
যন্ত্রটির মাধ্যমে হার্টে রিং পড়ানো ও এনজিওগ্রাম সহ হৃদরোগ চিকিৎসায় বিভিন্ন জটিল পরীক্ষা-নিরিক্ষা ও কাজ করা হয়ে থাকে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। মূল্যবান অত্যাধুনিক যন্ত্রটি স্থাপন করা হলেও দীর্ঘ প্রায় ১০ বছরেও চালু না করে ফেলে রাখা হয়।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের দায়িত্বরত ইলেকট্রো মেডিকো টেকনিশিয়ান মাঈনুল ইসলাম জানান, মেশিনটি স্থাপনের পর চালু করে যাওয়ার কথা ছিল ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু তৎকালীন সময়ে মেশিনটি চালু না করেই সম্পূর্ণ টাকা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ হয়েছে। এ ছাড়া মেশিনটির চালুর বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার চিঠি প্রেরণ করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি বলে তিনি দাবি করেন।
সর্বশেষ চলতি বছরের গত ১১ মার্চ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও চিঠির অনুলিপি উত্থাপন করেন।
এ বিষয়ে দুদক ফরিদপুর সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজ জানান, হাসপাতালে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে এ অভিযান চলছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
এনকেবি নয়ন/খাদিজা রুমি/
আরও পড়ুন
শিবচরে অধিগ্রহণে আটকে আছে নির্মাণ
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ, শিবচরে চান্দেরচর বাজারের উত্তর পাশের এলাকায়। ছবি: খবরের কাগজ
-->মাদারীপুরের শিবচরে ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ৬৬ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটির নির্মাণকাজ প্রায় ৫০ শতাংশ শেষ হওয়ার পর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পাঁচ ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে বেড়েছে ভোগান্তি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) শিবচর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিবচর উপজেলার চান্দেরচর বাজারের উত্তর পাশে খালের ওপর ২০২৩ সালে ১০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্প অনুযায়ী ২০২৫ সালের মে মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো সেতুটি চালু করা সম্ভব হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, চান্দের বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের ওপর সেতুর মূল কাঠামোর কিছু অংশ নির্মাণ করা হলেও অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় সেতুর নির্মাণসামগ্রীর বিভিন্ন অংশে মরিচা ধরেছে। সেতুর পাশে অস্থায়ীভাবে তৈরি করা অ্যাপ্রোচ সড়ক দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয়রা। এতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
আরও পড়ুন
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের অনেকেই এখনো ক্ষতিপূরণের অর্থ পাননি। এ নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শিবচর উপজেলার উমেদপুর, ভদ্রাসন, দ্বিতীয় খণ্ড, কাদিরপুর ও ভান্ডারীকান্দি ইউনিয়নের মানুষকে বিকল্প ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা। বিশেষ করে বর্ষার সময় উৎপাদিত কৃষিপণ্য স্থানীয় চান্দেরচর বাজারসহ কয়েকটি বাজারে নিতে অ্যাপ্রোচ সড়কের বেহাল দশায় অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় একটি কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ যাত্রীদেরও প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় চান্দেরচর বাজারের ব্যবসায়ী জামাল হোসেন বলেন, ‘সেতুর কাজ বন্ধ, কারও কোনো দায়িত্ব নেই। এই বাজারে প্রতিদিন ২০-২৫ হাজার লোক আসে। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্ট হয়। সাধারণ জনগণ মালামাল নিতে-আনতে ভোগান্তিতে পড়েন। প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই দ্রুত তারা যেন সেতুটি করে দেয়।’
স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সেতুটির কাজ বন্ধ রয়েছে। এখানে আর কোনো কাজ হয়নি। সেতুটি না হওয়ার কারণে অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আশপাশের ইউনিয়নের অনেক লোক ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিশেষ করে ঢাকাগামী মানুষ দুর্ভোগে পড়ছেন। আমাদের দাবি, অতি দ্রুত যেন এই কাজটি শেষ করা হয়।’
ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক সিদ্দিক খান বলেন, ‘আমরা জমির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ চাই। একই সঙ্গে এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেতুটি নির্মাণ শেষ হলে কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নেও সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা প্রকৌশলী ইমন মোল্লা বলেন, ‘চান্দেরচর বাজারের পাশের সেতুটির কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় জনভোগান্তি হচ্ছে। ভোগান্তি রোধে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। জমি অধিগ্রহণের কাজ প্রক্রিয়াধীন। চার ধারা ইতোমধ্যে জারি হয়েছে, বাকি কাজ সম্পন্ন হলে অতিদ্রুত এই সেতুর কাজ সম্পন্ন হবে।’
আরও পড়ুন
মৌলভীবাজারে অবকাঠামো আছে, যাতায়াত নেই
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
অবকাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে স্থানীয়রা সেতু ব্যবহার করতে পারছেন না। মৌলভীবাজারের রাজনগরের ইসলামপুর থেকে তোলা। ছবি: খবরের কাগজ
-->মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়ন। ২০২০ সালের জুলাইয়ে এই ইউনিয়নের দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামের লাঘাটা নদীর ওপর একটি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। কথা ছিল পরের বছরের নভেম্বরে কাজ শেষ হবে। অথচ এখন পর্যন্ত তা মানুষের যাতায়াতের উপযোগী হয়নি।
সেতুর অবকাঠামো তৈরি হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে তা স্থানীয়রা ব্যবহার করতে পারছেন না। এতে ১২ গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্ষার কারণে মাটির অভাবে সংযোগ সড়কের কাজ বিলম্বিত হয়েছে। এ ছাড়া আইনি জটিলতার কারণে জমি অধিগ্রহণে সমস্যা দেখা দিয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রাজনগর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কামারচাক প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ধলাই ফেরিঘাট সড়কে যাওয়ার মধ্যবর্তী স্থানে ২০২০ সালের ৬ জুলাই সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ৬০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি সেতুটি বানাতে ব্যয় ধরা হয় ৪ কোটি ৪ লাখ ৩ হাজার ৪৪৯ টাকা। কাজ পায় ভোলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রিন্স মামুন (জেবি)। চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ সালের ১৮ নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা। সেই মেয়াদও শেষ হয়েছে পাঁচ বছর আগে। অথচ সেতুর অবকাঠামো নির্মাণ হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে তা স্থানীয়রা ব্যবহার করতে পারছেন না। এতে তাদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
আরও পড়ুন
এমন অবস্থায় দক্ষিণ ইসলামপুর, খাস প্রেমনগর, মিটিপুর, ভোলানগর, শ্যামেরকোনা, নওয়াগাঁও, আলালপুর, হাটিকরাইয়া, গোবিন্দপুর, কালইকুনাসহ অন্তত ১২টি গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, প্রবীণ ব্যক্তি ও মুমূর্ষু রোগীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।
জানা গেছে, এলাকায় কৃষিপণ্য ও হাওরের মাছ বাজারে নেওয়া কিংবা ব্যবসার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়ছেন স্থানীয়রা। প্রায় দ্বিগুণ খরচে কৃষিপণ্য ও মাছ বাজারে নিতে গিয়ে কৃষক, খামারি ও মৎস্যজীবীরা প্রত্যাশিত লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বর্ষাকালে ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় লাঘাটা নদী পার হতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
ইসলামপুর এলাকার শিক্ষার্থী সুমি আক্তার জানান, সেতুটি অসম্পূর্ণ থাকায় বর্ষাকালে নদী পারাপারে তাদের ঝুঁকি নিতে হয়। দ্রুত সেতুর অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করে নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
কৃষক সুলেমান মিয়া বলেন, ‘সেতু কার্যকর না থাকায় জমির ফসল নিয়ে নদী পার হতে অনেক সময় ও টাকা লাগে। বর্ষায় নৌকা বা বাঁশের সাঁকোই আমাদের ভরসা। দ্রুত সেতুর কাজ শেষ হলে আমাদের দুর্ভোগ কমবে।’
দক্ষিণ ইসলামপুরের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, যোগাযোগব্যবস্থার দুরবস্থার কারণে স্থানীয়দের সময় ও অর্থ দুটিরই ব্যয় হচ্ছে। তারা দ্রুত দুই পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে এটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার দাবি জানান।
প্রবীণ ব্যবসায়ী মুজিব মিয়া বলেন, ‘সেতুর কাজ শুরু হওয়ার পর আমরা আশা করেছিলাম দ্রুতই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ শেষ হবে। কিন্তু প্রায় পাঁচ বছর পার হলেও সেতুটি পুরোপুরি চালু হয়নি। এত টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করেও মানুষ যদি এর সুফল না পান, তাহলে বিষয়টি দুঃখজনক।’
এদিকে সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রিন্স মামুন (জেভি)-এর স্বত্বাধিকারী ও ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এলজিইডির রাজনগর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল গনি বলেন, ‘মূল সেতুর কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। তবে বর্ষার কারণে মাটি না পাওয়ায় সংযোগ সড়কের কাজ বিলম্বিত হয়েছে। জমি অধিগ্রহণেও কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে। বর্তমান অবস্থাতেই সংযোগ সড়ক বা অ্যাপ্রোচের কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।’
