Published on
:
2 min read
দক্ষিণ কলকাতায় আমার জন্ম। ছোটবেলায় আমি বেশিরভাগ সময়েই আমাদের পাড়ার পুজোয় সময় কাটাতাম। বাড়ি ফিরতে ইচ্ছে করত না। নতুন জামা পরে বন্ধুদের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প করতাম। এই নতুন জামা নিয়ে একবার পুজোয় সে কী কাণ্ড। আমাদের বাড়ির পাশেই ছিল পরিচিত একটি দর্জির দোকান। আমাদের সব জামাকাপড় সেই দোকান থেকেই বানানো হতো। পুজোর ঠিক মুখে পঞ্চমী বা ষষ্ঠী হবে, মা উদভ্রান্তের মতো বাড়িতে ঢুকে বললেন, ‘সর্বনাশ হয়েছে রে, ওই দোকান থেকে সর্বস্ব চুরি হয়ে গিয়েছে। এখন কী করবো আমার মাথায় আসছে না।’ সব শুনে আমার চোখে জল চলে এল।
এক দিকে, পছন্দের জামাকাপড় পরতে না পারা, অন্য দিকে, বন্ধুদের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে বেরবার সব পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়া। মা তো রেগে সোজা চলে গেলেন থানায় পুলিশের সাহায্যের জন্য। থানার বড়বাবু ঘটনাটাকে ভীষণ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, আমাকে একদিন সময় দিন, কথা দিচ্ছি সব উদ্ধার করে আনব। ভেবেছিলাম, উনি হয়তো সান্ত্বনা দিচ্ছেন। কিন্তু না। ওই অফিসার অসম্ভব তৎপরতার সঙ্গে পুরো পুলিশ ফোর্সকে কাজে লাগিয়ে চব্বিশ ঘণ্টার আগেই উদ্ধার করে নিয়ে এলেন চুরি হওয়া সব জামাকাপড়। যা অবিশ্বাস্য অথচ সত্যি। সে দিন ভগবানের দূত হয়েছিলেন ওই পুলিশ অফিসার।
ক্লাস ফাইভে যখন পড়ি আমরা তখনই বাড়ি বদলে বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে চলে আসি। সেই থেকে আমরা এখানকারই বাসিন্দা। এখনও মনে পড়ে এই আবাসনের প্রথম পুজোয় মা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দায়িত্বে ছিলেন। দারুণ নৃত্য-গীতিনাট্য পরিবেশিত হয়েছিল। অশোকতরু বন্দ্যোপাধ্যায় এসেছিলেন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে। এমনিতেই আমি পুজোয় প্রতিদিন বেরোতাম না। তবে দু’একদিন বাড়ি থেকে দলবেঁধে বেরিয়ে বাছাই করা কিছু ঠাকুর দেখতাম। এখনও দেখি। আমার কাছে ছিল এটি খুবই মজার। আমার মা ঘুরে ঘুরে ঠাকুর দেখতে খুব পছন্দ করতেন। ঠাকুর দেখার নেশাও ছিল। মা মারা যাওয়ার পর থেকে আমারও খুব একটা বেরোতে ইচ্ছে করত না।
একটু বড় হতে আর পথে বেরতাম না বেশি। ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে বাড়ির পুজোতেই আড্ডা মেরে রাত কাটিয়ে দিতাম। আমরা সবাই মিলে গানও ধরতাম। গানের জগতে পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা পেলাম যখন, তখন থেকেই কলকাতার বাইরেও চলে যেতে হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। তবে দশমীতে ফিরলেও ওইদিন কয়েকটি ঠাকুর অবশ্যই দেখে নিতাম। তার মধ্যে বাগবাজার সার্বজনীন অবশ্যই থাকত। আর অনুষ্ঠানের জন্য বিদেশে চলে গেলে? উপায় থাকত না কিন্তু মন পড়ে থাকত কলকাতায়। এ বার বাইরে কোথাও যাচ্ছি না। কলকাতাতেই আছি।