প্রয়াত অভিনেতা নানা পাটেকরের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব প্রায় চার দশকের। শুধু পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও বন্ধুর পাশে কীভাবে দাঁড়াতে হয়, তা নানা পাটেকরের কাছ থেকেই শিখেছিলেন অভিনেতা শিবাজি সতম। স্ত্রীর ক্যানসার ধরা পড়ার পর কঠিন সময়ে যেভাবে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন নানা, তা আজও ভুলতে পারেননি ‘সিআইডি’-র এসিপি প্রদ্যুম্ন। প্রয়াত বন্ধুকে স্মরণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন অভিনেতা। জানালেন, নিজের দাদাও হয়তো তাঁর জন্য এতটা করতেন না, যতটা করেছিলেন নানা।
সম্প্রতি মুম্বইয়ে নানার স্মরণে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তাঁদের দীর্ঘ বন্ধুত্বের নানা অজানা কাহিনি ভাগ করে নেন শিবাজি। অনুষ্ঠানের নাম ছিল ‘আঠবণীতলে নানা’, অর্থাৎ স্মৃতিতে নানা। সেখানেই অভিনেতা জানান, হিন্দি ছবির জগতে নিজের জায়গা তৈরি করার ক্ষেত্রেও নানার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
শিবাজির কথায়, তাঁর প্রথম হিন্দি ছবি ‘যশবন্ত’-এ অভিনয়ের সুযোগ এসেছিল নানার উদ্যোগেই। ছবিতে এক পুলিশ আধিকারিকের চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু প্রথমে সেই প্রস্তাবে রাজি হননি শিবাজি। শেষ পর্যন্ত নানা নিজে তাঁকে বুঝিয়ে রাজি করান। শুধু তাই নয়, ছবির কাজ শেষ হওয়ার পর শিবাজি কত পারিশ্রমিক পেয়েছেন, তা জানতে পেরে ক্ষুব্ধও হয়েছিলেন নানা।
শিবাজি জানান, তাঁর পারিশ্রমিকের অঙ্ক শুনে নানা প্রশ্ন করেন, কেন আগে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেননি তিনি। এরপর প্রযোজকদের সঙ্গে নিজেই কথা বলেন অভিনেতা। শিবাজির আপত্তি সত্ত্বেও বন্ধুর প্রাপ্য সম্মান ও পারিশ্রমিক নিশ্চিত করতে পিছপা হননি নানা। এমনকি প্রযোজককে প্রায় দু’ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন বলেও স্মৃতিচারণে জানান শিবাজি।
তবে নানার প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতার সবচেয়ে বড় কারণ ব্যক্তিগত জীবনের এক কঠিন অধ্যায়। ‘গুলাম-এ-মুস্তাফা’ ছবির শুটিং চলাকালীন শিবাজির স্ত্রীর ক্যানসার ধরা পড়ে। একদিকে স্ত্রীর চিকিৎসা, অন্যদিকে কাজের দায়িত্ব—দুই সামলাতে গিয়ে কার্যত দিশাহারা হয়ে পড়েছিলেন অভিনেতা। সেই পরিস্থিতিতে ছবি ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন তিনি।
কিন্তু নানা তাঁকে কাজ ছেড়ে দিতে দেননি। বরং পরিচালক পার্থ ঘোষ-সহ ছবির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে শুটিংয়ের সময়সূচি এমনভাবে বদলানোর ব্যবস্থা করেন, যাতে শিবাজি পরিবারের পাশে থাকার সুযোগ পান। তাঁকে দুপুর ১২টায় শুটিংয়ে আসতে এবং রাত ৮টার মধ্যে বাড়ি ফিরে যেতে বলা হয়।
এই সাহায্যের কথা বলতে গিয়ে শিবাজি বলেন, নানার প্রতি তাঁর ভালবাসা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তাঁর মতে, নিজের দাদাও হয়তো তাঁর জন্য এতটা করতেন না, যতটা নানা করেছিলেন। বন্ধুর এই নিঃস্বার্থ সহযোগিতা আজীবন মনে রাখবেন তিনি।
৮ অক্টোবর ২০২৬, ৭৫ বছর বয়সে প্রয়াত হন নানা পাটেকর। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ চলচ্চিত্র জগৎ। পর্দায় নানা ছিলেন শক্তিশালী অভিনেতা, কিন্তু শিবাজির স্মৃতিতে তিনি আরও বড়—একজন নির্ভরযোগ্য বন্ধু, যিনি কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়াতে জানতেন।
