দেশে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম উপসর্গ নিয়ে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হাম ও হাম উপসর্গ মিলিয়ে নতুন করে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৬৫ জন। তবে এই সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ১৪ জন শনাক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৫১ জন। দুই শ্রেণি মিলিয়ে নতুন শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৫ জনে।
গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে হাম উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৮৪ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ৩২৪ জন। দীর্ঘ সময় ধরে রোগটির সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে ১৫ মার্চ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১৮ জনে। অন্যদিকে, একই সময়ে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০৪ জনের। গত এক দিনে নিশ্চিত হামে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, হাম উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২২২ জনে। তবে হাম উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর হিসাব আলাদা। তাই উপসর্গের কারণে হওয়া সব মৃত্যুকে নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
হাসপাতালে ভর্তি ও সুস্থতার পরিসংখ্যানেও পরিস্থিতির ব্যাপকতা উঠে এসেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৯৫ হাজার ৫১৪ জন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৫ জন।
ক্রমবর্ধমান শনাক্ত ও মৃত্যুর এই পরিসংখ্যানের মধ্যে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা গুরুত্বপূর্ণ। হাম সন্দেহ হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশুদের জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি বা অন্য কোনো উদ্বেগজনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করা উচিত।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সংক্রমণ ও মৃত্যুর সামগ্রিক চিত্র দেশের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতির ওপর বাড়তি নজরদারির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
-20261024114719.jpg&w=1440&q=75)