বিশেষ প্রতিনিধি সঞ্জীব ভট্টাচার্য্য
শুধু রোগ সারানোই তাঁর কাজ নয় — রোগীকে আবার বাঁচতে শেখানোটাও তাঁর দায়িত্ব। এই বিশ্বাসকে বুকে ধারণ করে প্রতিদিন অগণিত ক্যান্সার রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন ডা. ভাস্কর চক্রবর্তী। তিনি কেবল একজন চিকিৎসক নন — তিনি একজন মানবিক আলোকবর্তিকা, যাঁর স্পর্শে হতাশার অন্ধকারে আশার আলো খোঁজে পান ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষেরা।
*যাঁর হাতে রয়েছে বিরল দক্ষতা*
ডা. ভাস্কর চক্রবর্তী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে ২০১১ সালে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। এরপর রেডিওথেরাপিতে উচ্চতর বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষণ নিয়ে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) থেকে এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। সেই সময় তিনি ছিলেন দেশের সবচেয়ে কমবয়সী অনকোলজিস্ট — একটি বিরল গৌরব যা তাঁর মেধা ও নিষ্ঠার প্রমাণ। ২০১৬ সালে শ্রেষ্ঠ তরুণ গবেষক হিসেবে প্রফেসর সাইয়্যিদ ফজলুল হক স্মৃতি স্বর্ণপদকে ভূষিত হন তিনি। আধুনিক নির্ভুল রেডিওথেরাপি কৌশল — 4DCRT, 3DCRT, IMRT, IGRT, VMAT, SBRT এবং SRS — পাশাপাশি উন্নত ক্যান্সার কেমোথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপিতে তাঁর দক্ষতা দেশে-বিদেশে স্বীকৃত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে তাঁর গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে এবং একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন।
বর্তমানে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রামে মেডিকেল ও রেডিয়েশন অনকোলজি বিভাগে ভিজিটিং কনসালটেন্ট হিসেবে কর্মরত আছেন। এর আগে তিনি ঢাকার আহসানিয়া মিশন ক্যান্সার ও জেনারেল হাসপাতালের একাডেমিক ও গবেষণা উইংয়ের প্রধান সমন্বয়ক এবং খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
*গরিব রোগীর জন্য যিনি বাড়িয়ে দেন সাহায্যের হাত*
ডা. ভাস্কর চক্রবর্তীর বিশেষত্ব শুধু তাঁর পদবি বা ডিগ্রিতে নয় — তাঁর মানবিকতায়। অসংখ্য দরিদ্র ক্যান্সার রোগী, যাদের চিকিৎসার খরচ বহন করার সামর্থ্য নেই, তাদের পাশে নিঃস্বার্থভাবে দাঁড়িয়েছেন তিনি। চিকিৎসাসেবা যাতে কেবল অর্থের অভাবে বন্ধ না হয়ে যায় — এই ভাবনাটি সবসময় তাঁকে তাড়িয়ে বেড়ায়। সহকর্মী ও রোগীদের কাছে তিনি শুধু একজন দক্ষ চিকিৎসকই নন — একজন বিশ্বস্ত মানুষ।
*লড়াই শেষে জয়ের উৎসব — এক অনন্য আয়োজন*
সম্প্রতি ডা. ভাস্কর চক্রবর্তীর উদ্যোগে ক্যান্সারজয়ী রোগীদের নিয়ে আয়োজিত হয় এক হৃদয়ছোঁয়া অনুষ্ঠান। ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষদের একত্রিত করে তিনি বলতে চেয়েছেন — জীবন থেমে থাকে না, জীবন এগিয়ে যায়। অনুষ্ঠানে ছিল হাতের তৈরি নান্দনিক কারুকার্যের স্টল, সুস্বাদু খাবারের আয়োজনসহ নানা আনন্দময় উদ্যোগ। প্রতিটি স্টল যেন বলছিল একেকটি জীবনের গল্প — ক্যান্সার জয়ের বার্তা এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি। এই আয়োজন শুধু একটি অনুষ্ঠান নয় — এটি সাহস, আশা আর নতুন জীবনের এক প্রাণবন্ত উদযাপন।
*একটি বার্তা, একটি বিশ্বাস*
ডা. ভাস্কর চক্রবর্তী বিশ্বাস করেন — ক্যান্সার মানেই শেষ নয়। সঠিক চিকিৎসা, অদম্য মনোবল এবং প্রিয়জনদের ভালোবাসা থাকলে জয় অবশ্যই সম্ভব। তাঁর এই বিশ্বাস কেবল কথায় নয়, প্রতিদিনের কাজে প্রমাণিত হচ্ছে — শত শত ক্যান্সার রোগীর সুস্থ জীবনে ফেরার মধ্য দিয়ে।
এই অদম্য চিকিৎসকের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।