সৌদি আরবের মক্কার হেরা কালচারাল ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত পবিত্র কোরআন জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে ১৫শ শতকের একটি কোরআনের পাণ্ডুলিপি। হস্তলিপির ঐতিহাসিক নিপুণতা ও আরবি ক্যালিগ্রাফির নান্দনিক সৌন্দর্যের অনন্য নিদর্শন এই পাণ্ডুলিপি।
হিজরি নবম শতকে (খ্রিষ্টীয় ১৫শ শতক) লেখা পাণ্ডুলিপিটি সুলুস লিপিতে রচিত। বিস্তৃত অক্ষররূপ, লেখার কাঠামোয় নমনীয়তা এবং অক্ষরের সুষম বিন্যাসের জন্য পরিচিত এই লিপি ইসলামের বিভিন্ন যুগে পবিত্র কোরআন লিপিবদ্ধ ও অলংকরণের ক্ষেত্রে শিল্পীদের অসাধারণ যত্ন ও দক্ষতার পরিচয় বহন করে।
পাণ্ডুলিপিটি দর্শনার্থীদের কোরআন লিপিবদ্ধ করার পদ্ধতির ক্রমবিকাশ সম্পর্কে ধারণা দেয়। এতে ধর্মীয় শ্রদ্ধাবোধের সঙ্গে আঞ্চলিক ক্যালিগ্রাফি-শৈলীর শিল্পগত বিবর্তনের মেলবন্ধন ফুটে উঠেছে।
দীর্ঘায়িত অক্ষর, সূক্ষ্ম বাঁক এবং সুষম ব্যবধান সুলুস লিপির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ঐতিহাসিকভাবে দক্ষ ক্যালিগ্রাফাররা এ লিপিকে শিল্পকর্মের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। মসজিদের স্থাপত্য, মিহরাব ও গম্বুজের অলংকরণে এর ব্যবহার পাঠযোগ্যতা ও নান্দনিক জাঁকজমকের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করেছে।
প্রাচীন ও ঐতিহাসিক কোরআনের পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণ এবং প্রদর্শন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিকশিত হস্তলিপিশিল্পের ধারাবাহিকতা নথিবদ্ধ হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন ঐতিহাসিক যুগের স্বতন্ত্র শিল্পরীতি ও বৈশিষ্ট্যও সংরক্ষিত থাকে।
হেরা কালচারাল ডিস্ট্রিক্টের পবিত্র কোরআন জাদুঘরের বিভিন্ন আয়োজনের অংশ হিসেবে পাণ্ডুলিপিটি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
হেরা পর্বতের পাশে অবস্থিত জাদুঘরটিতে কোরআনের ইতিহাস এবং সংকলনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে শিক্ষামূলক নানা উপস্থাপনা রয়েছে। ইসলামি ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও সমকালীন দর্শনার্থীদের কাছে তা তুলে ধরতে বিশেষায়িত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও এর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
