'মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬' এর অংশ হিসেবে মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মা নদীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০ জেলেকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক প্রত্যেক জেলেকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ সময় জব্দ করা প্রায় দেড় লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি নদীর তীরবর্তী বাজারে অবৈধভাবে ইলিশ বিক্রির অস্থায়ী দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পদ্মা নদী ও এর সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় টানা চার ঘণ্টা এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সরকারের তত্ত্বাবধানে এবং শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এইচ এম ইবনে মিজানের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাছির উদ্দিন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার এবং শিবচর থানা ও নৌপুলিশের সদস্যরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পদ্মা নদীতে ইলিশ শিকার করছিলেন একদল জেলে। খবর পেয়ে টাস্কফোর্সের সদস্যরা নদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০ জেলেকে আটক করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযানকালে জব্দ করা প্রায় দেড় লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়া পদ্মা নদীর তীরবর্তী বাজারে অবৈধভাবে ইলিশ বিক্রির জন্য গড়ে তোলা অস্থায়ী দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়।
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, ইলিশ ও জাতীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ইলিশ যাতে নিরাপদে পদ্মা নদীতে ডিম ছাড়তে পারে, সে জন্য অভিযান অব্যাহত থাকবে। ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত অভয়াশ্রম এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকবে। আইন অমান্যকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
