সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটে ঝড়ো সূচনা, প্রথম তিন ওভারেই ৫০ রান। তখন অনেকেই ভেবেছিলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া বিশাল লক্ষ্যও ভারতের কাছে সহজ হয়ে যাবে। কিন্তু টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সেই চেনা অনিশ্চয়তাই শেষ পর্যন্ত দেখা গেল হায়দরাবাদে। শাই হোপের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও কিমো পলের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ভারতকে ২৪ রানে হারিয়ে সিরিজে ২-২ সমতা ফিরিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
প্রথমে ব্যাট করে ৩ উইকেটে ২৪৭ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে ক্যারিবীয়রা। জবাবে স্যামসনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে উড়ন্ত সূচনা পেলেও ২২৩ রানেই থেমে যায় ভারতের ইনিংস। ফলে সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে জয় তুলে নিয়ে নির্ধারণী পঞ্চম ম্যাচের লড়াই আরও জমিয়ে তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ভারতের মাটিতে এবারের সফরটি স্মরণীয় করে রাখছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক শাই হোপ। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে এই সফরে এটি তার চতুর্থ সেঞ্চুরি। চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ইনিংসের শেষ দুই বলে টানা দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজের তৃতীয় শতকের দেখা পান তিনি।
মাত্র ৫০ বলে চারটি চার ও নয়টি ছক্কায় অপরাজিত ১০২ রানের ইনিংস খেলেন হোপ। তার ব্যাটিংয়ে ছিল ২০৪.০০ স্ট্রাইক রেটের বিস্ফোরক আক্রমণ। শারফেন রাদারফোর্ডের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৯১ রানের জুটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে যান ২৪৭ রানের বড় সংগ্রহে। রাদারফোর্ডও ছিলেন দুর্দান্ত, ২৬ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।
এই সেঞ্চুরিতে ক্রিস গেইল ও এভিন লুইসকে ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক হয়েছেন হোপ। পাশাপাশি দুই হাজার রানের মাইলফলকও পেরিয়েছেন তিনি। রোভম্যান পাওয়েল, নিকোলাস পুরান ও ব্র্যান্ডন কিংয়ের পর চতুর্থ ক্যারিবীয় ব্যাটার হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন ৩২ বছর বয়সী ডানহাতি ব্যাটার।
এর আগে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও ১০২ রানে অপরাজিত ছিলেন হোপ। ওয়ানডে সিরিজের শেষ দুই ম্যাচেও করেছিলেন সেঞ্চুরি। ফলে ভারতের বিপক্ষে চলতি সফরে ধারাবাহিকতার অনন্য নজির গড়েছেন তিনি।
২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ভারত। প্রথম তিন ওভারেই স্কোরবোর্ডে জমা হয় ৫০ রান। মাত্র ১৮ বলের মধ্যে ৪৭ রান তুলে স্যামসন ম্যাচের গতিপথ ভারতের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দেন।
তবে পঞ্চম ওভারে কিমো পলের প্রথম বলেই বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন স্যামসন। ২৩ বলে ছয়টি চার ও চারটি ছক্কায় তাঁর সংগ্রহ ৫৬ রান। ভারতের হয়ে ইনিংসের সর্বোচ্চ রানও শেষ পর্যন্ত এটিই।
একই ওভারে ঈষাণ কিষাণকেও ফিরিয়ে ভারতকে চাপে ফেলেন পল। এরপর শ্রেয়াস আইয়ার, অভিষেক শর্মা ও তিলক ভার্মাদের সামনে ছিল ম্যাচে ফেরার সুযোগ। কিন্তু প্রত্যাশিত গতিতে রান তুলতে পারেননি তাঁরা।
১১ বলে ১৬ রান করে আউট হন শ্রেয়াস আইয়ার। অভিষেক শর্মাও বড় শট খেলতে গিয়ে ছন্দ হারান। ২৪ বলে ২৯ রান করে গুড়াকেশ মোতির বলে ক্যাচ দেন তিনি। ফলে উড়ন্ত শুরুর পরও ভারতের রান তোলার গতি ধীরে ধীরে কমতে থাকে।
তিলক ভার্মা ও নীতিশ কুমার দলকে জয়ের পথে ধরে রাখার চেষ্টা করেন। ১৭ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ পৌঁছে যায় ২০০ রানে। তখনও ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা ছিল যথেষ্ট। কিন্তু কিমো পলের শেষ স্পেল ভারতের সেই আশায় বড় ধাক্কা দেয়।
১৯তম ওভারে ফিরে মাত্র চার বলের মধ্যে নীতিশ কুমার, প্রিন্স যাদব ও অক্ষর প্যাটেলকে ফিরিয়ে দেন পল। চার ওভারে ৪১ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নিয়ে ম্যাচের ভাগ্য কার্যত নির্ধারণ করে দেন এই ক্যারিবীয় পেসার।
শেষ পর্যন্ত তিন বল বাকি থাকতেই থেমে যায় ভারতের ইনিংস। অর্শদীপ সিং রিটায়ার্ড আউট হয়ে মাঠ ছাড়লে ২২৩ রানেই শেষ হয় স্বাগতিকদের লড়াই। ২৪ রানের জয়ে সিরিজে সমতা ফেরানোর পাশাপাশি ওয়েস্ট ইন্ডিজ বুঝিয়ে দিল, বড় লক্ষ্য গড়ার পর সেটি রক্ষা করার সামর্থ্যও তাদের রয়েছে।
হোপের রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরি আর পলের পাঁচ উইকেটের সুবাদে সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে জয় পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অন্যদিকে স্যামসনের বিধ্বংসী সূচনা সত্ত্বেও ম্যাচ শেষ করতে ব্যর্থ হয়েছে ভারত।
এখন দুই দলের সামনে শেষ লড়াই। সিরিজের পঞ্চম ও নির্ধারণী টি-টোয়েন্টিতে শনিবার বেঙ্গালুরুতে মুখোমুখি হবে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২-২ সমতায় থাকা সিরিজে শেষ হাসি কার, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।
সংশ্লিষ্ট সংবাদ: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল
১৩ অক্টোবর ২০২৬
২৮ জুলাই ২০২৬
১৮ জুলাই ২০২৬
