প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৭ পিএম
দেশের সেরা আটজন প্রধান শিক্ষকের একজন হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ডলি রানী দেব। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট গ্রহণ করেন তিনি। তার এ অর্জনে গর্বিত নবীগঞ্জবাসী।
দীর্ঘ কর্মজীবনে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন ডলি রানী দেব। সৃজনশীল শিক্ষকতা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতামূলক উদ্যোগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্জন করেছেন একাধিক স্বীকৃতি।
ডলি রানী দেব জানান, ২০০১ সালে গজনাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। ২০০৭ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে ভরারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন। পরে ২০১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত নোওয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল আবারও গজনাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।
২০১৪ সালে হবিগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন ডলি রানী দেব। এর স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৬ সালে ইন্দোনেশিয়া সফরের সুযোগ পান তিনি। ২০১৯ সালে ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘কানেক্টিং ক্লাসরুমস’ কার্যক্রমে বাংলাদেশ, নেপাল ও পাকিস্তানসহ সাতটি দেশের বিদ্যালয়ের সঙ্গে কাজ করে ফুল অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে ইংল্যান্ডের তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও কাজ করেন তিনি।
২০২০ সালে ব্রিটিশ কাউন্সিলের আমন্ত্রণে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার সুযোগ পেলেও করোনা মহামারির কারণে তার সফরটি আর সম্ভব হয়নি। ২০২৫ সালে অদম্য নারী হিসেবে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে স্বীকৃতি পান তিনি।
এ ছাড়া শিক্ষক বাতায়নে একাধিকবার তার কনটেন্ট সেরা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। ২০১৯ সালে শিক্ষক বাতায়নের সফলতার গল্পে স্বীকৃতি পান তিনি। আইসিটি কার্যক্রমে হবিগঞ্জ জেলা অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। টেলিভিশন ও বেতারে বাংলা বিষয়ের পাঠদানের জন্য সিলেট বিভাগ থেকেও নির্বাচিত হন ডলি রানী দেব।
শিক্ষকতায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ছয়বার উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ২০১৮ সালে উপজেলার শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক হিসেবেও স্বীকৃতি পান।
ডলি রানী দেব নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের কুড়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা প্রয়াত সুধাংশু রঞ্জন দেব এবং মা প্রয়াত জ্যোতিকা রানী দেব। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তার স্বামী রাসেন্দ্র চন্দ্র দাশ পারকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তাঁদের একমাত্র সন্তান অভিজিৎ চন্দ্র দাশ সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।
নিজের এ অর্জনকে জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি উল্লেখ করে ডলি রানী দেব সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতেও শিক্ষা ও মানবকল্যাণে কাজ করে যেতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বাংলাদেশ প্রাইমারি শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুবেল মিয়া বলেন, ডলি রানী দেবের এ অর্জন নবীগঞ্জবাসীকে গর্বিত করেছে।
