ছবির ক্যাপশন: ..........................
জুয়েল শরীফ, নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলে এ বছর বোরো ধানের ফলন বিগত অন্তত ১০বছরের রেকর্ড ছড়িয়ে যাবে বলে চাষীরা আশা করছে। কোন বিপদ বিপত্তি ছাড়া যথা সময়ে ধান কেটে ঘরে তুলতে পারলে ধানের বর্তমান ভালো বাজার মূল্যে এবার তারা ব্যাপক লাভের আশা করছেন।
সরেজমিন জেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে চোখে পড়ে, দীগন্ত বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ জুড়ে শুধু ধান আর ধান। দৃষ্টি সীমা যতো দূর যায় বাতসে দোল খাওয়া ধানের শীষের আশা জাগানো হাতছানি। ক্ষেতের পর ক্ষেত কোথাও চোখ জুড়ানো সোনালী পাকা ধান, কোন ক্ষেতের ধানে সবে পাক ধরেছে, আবার কোথাও চাল পুষ্ট হয়ে উঠা রূপালী বর্ণের কাচা ধান। মাঠে মাঠে এমনই কাচাপাকা ধান ক্ষেতের সোনালী রূপালী ঝিলিক অপরূপ সুষমা দিয়েছে প্রকৃতিতে, খুশির ঝিলিক দিয়েছে চাষীদের চোখেমুখে। জেলাজুড়ে ধান কাটার ভরা মৌসুমের আর মাত্র কয়েকটি দিন বাকি থাকলেও কালিয়া উপজেলার পিরোলী, পাঁচগ্রাম, পুরুলিয়া ইউনিয়নব্যাপি জেলার অপেক্ষাকৃত নিচু বিলে আগেভাগে ধান লাগানো সম্পন্ন হওয়ায় এসব বিলে ইতিমধ্যে আগাম শরু জাতের সুবর্ণ৩সহ বিভিন্ন প্রকার মোটা জাতের ধান স্বল্প পরিসরে কর্তন শুরু হয়েছে। ব্যাপক ফলনে খুশি কৃষক চেখেমুখে প্রশান্তি নিয়ে ফসল কাটায় মেতে উঠেছে। ধান কাটায় ব্যস্ত এমনই একজন কৃষক রুহুল ফারাজি (৬০) সঙ্গে কথা হয় কালিয়া উপজেলার পাঁচগ্রাম উইনিয়নের সাতবাড়িয়া বিলে গিয়ে, তিনি বোরো মৌসুমে ধানের ফলন নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানাতে গিয়ে বলেন, এবার সব ধরনের ধানেরই অভাবনীয় ফলন হয়েছে, বিগত ১০ বছরে এতো ভালো ধান হয়নি আমাদের অঞ্চলে। কোনো প্রকার প্রাকৃতিক দূর্যোগ দুর্বিপাকে ক্ষয়ক্ষতি কবলে না পড়লে এবং ধানের উর্দ্ধমুখী বাজার দরের চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে এবার ধানে চাষীরা ব্যাপক লাভবান হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ৫০হাজার ২৯০ হেক্টর বোরোর আবাদি জমির বিপরীতে ৩লাখ ৪২ হাজার টন ধান উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। এবার বোরো মৌসমি জুড়ে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ফলে পর্যান্ত সেচ সুবিধা, চাষউপযোগী আবহাওয়ায় নিবিড় পরিচর্যাসহ চাষের সহায়ক নানা পারিপার্শ্বিকতায় উচ্চ ফলনশীল জাতের ব্রি ধান ৭৪, ৮১, ৮৪, ৮৬, ৮৮, ৮৯ এবং হাইব্রিড বিনা ধান ১৪, এস এল ৮এইচ ব্রাক, জি ১১, ময়না, রূপসী৭ ধানের নজরকাড়া ফলন হয়েছে। মোঃ জসিম উদ্দিন অরো বলেন, কৃষি বিভাগ বোরোর চাষাবাদ সম্প্রসারণ ও কাঙ্খিত ফলন পেতে বিনা মূল্যে সরকারি নানা কৃষি প্রনোদনাও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে কৃষকের পাশে থেকেছে।
