Published : 22 Oct 2026, 05:27 PM
Updated : 22 Oct 2026, 05:27 PM
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে জমি বিরোধের স্থায়ী সমাধান ও ‘নিত্যপূজা’ চালু রাখার আশ্বাস পেয়ে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন দিয়েছে লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলস দুর্গামন্দির পরিচালনা কমিটি।
বুধবার রাত ১২টার দিকে শীতলক্ষ্যা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে মন্দিরে আরেকটি প্রতিমা স্থাপন করে নিত্যপূজার (প্রতিদিন পূজা ও সন্ধ্যাবাতি দেওয়া) আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক তরুণ লাল বেগী।
মন্দিরের জমি নিয়ে বিরোধের সমাধান না হওয়ায় এর আগে প্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কমিটি। মঙ্গলবার এ ঘোষণা দেওয়ার পর বুধবার বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান। পরে তিনি মন্দির পরিদর্শন করেন।
এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দা, মন্দির পরিচালনা কমিটি ও লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলসের মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন।
কমিটির অভিযোগ, মন্দির দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। কটন মিলের দেয়াল নির্মাণের কারণে মন্দিরে প্রবেশেও বাধা সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৩ সালের ১৭ জুন মন্দিরে ভাঙচুরের অভিযোগও করেছে কমিটি।
নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান কমিটিকে প্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। এ সময় কমিটির পক্ষ থেকে নিত্যপূজা চালু রাখার নিশ্চয়তা এবং বিসর্জনের পর মন্দিরে আরেকটি প্রতিমা স্থাপনের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে জমি বিরোধের দ্রুত সমাধান চান তারা।
আলোচনার পর ২৬ অক্টোবর জমি বিরোধের সমাধানে কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়। এ সময় প্রশাসকের উপস্থিতিতে মন্দিরের দরজায় নতুন তালা লাগানো হয়।
মন্দির পরিচালনা কমিটি ও কটন মিলের মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের হাতে চাবি দেওয়া হয়। মন্দিরে যাতায়াত ও পূজা-অর্চনায় কাউকে বাধা দেওয়া যাবে না বলেও দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়।
তরুণ লাল বেগী বলেন, “মন্দিরে ঢুকতে আর বাধা দেওয়া হবে না- এমন আশ্বাস আমাদের দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয় হিন্দু ও কটন মিলের কয়েকজন শেয়ার হোল্ডারের ভাষ্য, মন্দিরের জমি নিয়ে বিরোধের পেছনে রয়েছে লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলসের মালিকানা পরিবর্তনের ইতিহাস। ১৯৭২ সালে মিলটি জাতীয়করণ করা হয়। পরে লোকসানের কারণে ২০০০ সালে ৫১০ জন শ্রমিকের কাছে মালিকানা হস্তান্তর করা হয়।
২০১২ সালে ‘নীট কনসার্ন গ্রুপ’ মিলটির বিনিয়োগকারী ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্ত হয়। এরপর মন্দিরের চারপাশে দেয়াল নির্মাণের কারণে প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে মন্দির পরিচালনা কমিটি।
কমিটির সভাপতি মিন্টু চন্দ্র দাস বলেন, ২৬ অক্টোবরের বৈঠকে জমি বিরোধের স্থায়ী সমাধান হবে বলে তারা আশা করছেন। একই সঙ্গে মন্দিরে নির্বিঘ্নে নিত্যপূজা চালিয়ে যাওয়ার নিশ্চয়তা চান তারা।
