ইন্দোনেশিয়ায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত দাবানলে ১৯ লাখ ১৬ হাজারের বেশি হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানিয়েছে বন উজাড় পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নুসান্তারা অ্যাটলাস। সোমবার ৯১৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এ তথ্য অনুযায়ী, দাবানলে পুড়ে যাওয়া এলাকার আয়তন লন্ডন শহরের আয়তনের প্রায় ১২ গুণ।
তবে চলমান দাবানল এখনো নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি দেশটি।
দাবানলের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ধোঁয়াশা ছড়িয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী মালয়েশিয়া আবারও সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে আগুনের ঘটনাকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে ইন্দোনেশিয়ার কর্মকর্তারা।
তাদের বক্তব্য, পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটি এখনো নিজেরাই সক্ষম। নুসান্তারা অ্যাটলাসের তথ্য অনুযায়ী, জুন থেকে খরা শুরু হওয়ার পর দাবানল ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি খরাকে আরও তীব্র করেছে।
ইন্দোনেশিয়ার সরকার এখনো পুড়ে যাওয়া এলাকার সর্বশেষ সরকারি হিসাব প্রকাশ করেনি। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, জুলাইয়ের শেষ নাগাদ ২ লাখ ২ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে।
নুসান্তারা অ্যাটলাসের প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড গাভো বলেন, তাদের হিসাবে এখন পর্যন্ত ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৫৮৮ হেক্টর এলাকা পুড়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।
তিনি বলেন, দুটি কারণে তাদের হিসাব প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চেয়ে কম হতে পারে। প্রথমত, ৬ দশমিক ২৫ হেক্টরের চেয়ে ছোট পুড়ে যাওয়া এলাকাগুলো হিসাবে ধরা হয় না। দ্বিতীয়ত, ভুলভাবে কোনো এলাকাকে পুড়ে যাওয়া হিসেবে শনাক্ত করা এড়াতে তাঁরা সতর্কতার সঙ্গে তথ্য বিশ্লেষণ করেন।
এ বছর ঘন ধোঁয়াশার কারণেও স্যাটেলাইটের ছবিতে কিছু সময় আগুনে পুড়ে যাওয়া এলাকা স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি। ফলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি হিসাবের চেয়ে বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবু সংস্থাটির তথ্য বলছে, ২০১৯ সালের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত পুড়ে যাওয়া এলাকার পরিমাণ ৩৮ শতাংশ বেশি। ২০১৫ সালে ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ দাবানল হয়েছিল।
তবে সে সময় পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত বর্তমান স্যাটেলাইটগুলো চালু না থাকায় ওই বছরের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা সম্ভব নয়। ডেভিড গাভোর ধারণা, চলতি বছরের দাবানলও ২০১৫ সালের মতো ভয়াবহ হতে পারে। সূত্র: এএফপি
ডিসি/আপ্র/১৯/১০/২০২৬
