মঠবাড়িয়ার তাফালবাড়িয়া হাসানিয়া আলীম মাদ্রাসার চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল নিবন্ধন সনদে চাকরির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠনটি। খোদ জেলা শিক্ষা অফিসের পরিদর্শক তাপস কুমার নিজেই এ অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে হতাশা প্রকাশ এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করার কথা জানান।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ২১ জন শিক্ষক-কর্মচারী থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে ৭ জনের বেশি উপস্থিত থাকেন না। অনিয়মিত শিক্ষকরা বিল-বেতন বা বিশেষ কোনো সময় প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে পেছনের দিনের স্বাক্ষর করেন। এমন কি বিভিন্ন সময় বেতন-ভাতা উত্তোলনেও জাল স্বাক্ষর ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এ সব বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন একাডেমিক সুপারভাইজার নজরুল ইসলাম ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা রুহুল আমিন। সরেজমিনে গেলে সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা জাকারিয়া জানান, জাল নিবন্ধনের মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানের চার শিক্ষক অবৈধপন্থায় চাকরি নিয়েছেন। সাধারণ শিক্ষক মহিবুল্লাহ ২০১৪ সালে বিএ-এর কোঠায় চাকরি নিয়ে বছরের পর বছর অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন সুবিধা গ্রহণ করে আসছেন। ২০২২ সালের মার্চে কমিটির মাধ্যমে প্রভাষক পদে পদোন্নতি নিয়ে বেতন সুবিধা গ্রহণ করলেও তিনি এনটিআরসি নিয়োগপ্রাপ্ত নন। তৈবুর রহমানের ফাজিল সার্টিফিকেট ছাড়াই ২০২৪ সালে ইবতেদায়ি শাখার প্রধান হন। যা সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত বলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা জানান। ইংরেজি প্রভাষক মারুফ ২০১৪ সালে জাল নিবন্ধন দিয়ে এনটিআরসি নিয়োগ ছাড়াই চাকরিতে যোগদান করেন। সবচেয়ে বেশি অনিয়মিত শিক্ষক আলমগীর হোসেন ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক হিসেবে জাল নিবন্ধনে ২০০৪ সালে গোপনে যোগদান করেন। ২০২২ সালের মার্চে তার বেতনভাতা শুরু হয়।
সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাকারিয়া ক্ষোভের সঙ্গে আরও অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানের একটি চক্র একদিনের জন্য দায়িত্বের বাইরে রেখে মহিবুল্লাহকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করে। এছাড়াও নিয়ম বহির্ভূতভাবে একজন শিক্ষক ও চার কর্মচারীকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়। মাওলানা রুহুল আমিন সম্পূর্ণ অবৈধপন্থায় জোরপুর্বক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ দখল করে তিনি অনিয়মিত শিক্ষকদের কাছ থেকে কমিশন নিয়ে প্রতিমাসে বিল করে দেন। সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা খলিলুর রহমান প্রতিষ্ঠানের ফান্ডের প্রায় দেড় লাখ টাকা তুলে নিয়ে গেছেন। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক মহিবুল্লাহ জানান, তার সব কাগজপত্র ঠিক বললেও তিনি দেখাতে রাজি নন। একই সঙ্গে সংবাদ না করারও অনুরোধ করেন। শিক্ষক আলমগীর প্রথমে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। পরে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ বানোয়াট। এদিকে, ওই প্রতিষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীরা গেলেও ইবতেদায়ি প্রধান তৈবুর রহমান কোনো কথা বলতে রাজি হননি। ইংরেজি প্রভাষক মারুফ অনুপস্থিত থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা রুহুল আমিন বলেন, সিনিয়র হিসেবে আমাকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি কোনো রেজ্যুলেশন কিংবা কোনো চিঠি দেখাতে পারেননি। অনিয়মিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে, কীভাবে বিল করেন? এবং প্রতিষ্ঠানের ফান্ডের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন? এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার নজরুল ইসলাম বলেন, বিল-বেতন করার দায়িত্ব সম্পূর্ণ অধ্যক্ষ ও সভাপতির। তারা বিল তৈরি করে দেন, আমি ফরমাল স্বাক্ষর করি। এ দায় সম্পূর্ণ তাদের। ইউএনও আতাউর রাব্বি বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।