সংবাদ · টেক
কোয়ান্টাম কম্পিউটার যা বদলে দিতে পারে প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ
২২/১০/২০২৬

প্রচলিত কম্পিউটার যেখানে জটিল হিসাবের
ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার
মুখে পড়ে,
সেখানে নতুন
সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং। কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের
বিশেষ কিছু
নীতির ওপর
ভিত্তি করে
তৈরি এই
প্রযুক্তি তথ্য প্রক্রিয়াকরণের প্রচলিত পদ্ধতি
থেকে আলাদা। এর মূল শক্তি হলো
‘কোয়ান্টাম বিট’ বা ‘কিউবিট’, যা
সাধারণ কম্পিউটারের
বিটের মতো
কাজ করে
না।সাধারণ কম্পিউটার থেকে কোথায় আলাদা কোয়ান্টাম প্রযুক্তি?স্মার্টফোন, ব্যক্তিগত কম্পিউটার কিংবা সুপারকম্পিউটার
- সব প্রচলিত
ডিজিটাল যন্ত্রই
তথ্য প্রক্রিয়াকরণে
বিট ব্যবহার
করে। একটি
বিট একই
সময়ে ০
অথবা ১,
এই দুই
অবস্থার যেকোনো
একটিতে থাকে।
কোয়ান্টাম কম্পিউটারে ব্যবহৃত কিউবিটের আচরণ
ভিন্ন। কোয়ান্টাম
পদার্থবিজ্ঞানের ‘সুপারপজিশন’ বৈশিষ্ট্যের
কারণে একটি
কিউবিট ০
ও ১
অবস্থার কোয়ান্টাম
সমন্বয়ে থাকতে
পারে।এ প্রযুক্তির
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ
বৈশিষ্ট্য হলো ‘এনট্যাঙ্গলমেন্ট’। এর মাধ্যমে একাধিক কিউবিটের
মধ্যে বিশেষ
ধরনের কোয়ান্টাম
সম্পর্ক তৈরি
হয়। সুপারপজিশন
ও এনট্যাঙ্গলমেন্ট
একসঙ্গে কোয়ান্টাম
কম্পিউটারের হিসাব করার পদ্ধতিকে স্বতন্ত্র
করে তোলে।কিউবিট বাড়লে কেন বাড়ে সম্ভাবনা?দুটি সাধারণ
বিটের মাধ্যমে
০০, ০১,
১০ ও
১১ - এই
চারটি সমন্বয়ের
যেকোনো একটিকে
প্রকাশ করা
যায়। অন্যদিকে,
দুটি কিউবিটের
কোয়ান্টাম অবস্থা এই চারটি সমন্বয়ের
সুপারপজিশন ধারণ করতে পারে। কিউবিটের
সংখ্যা বাড়ার
সঙ্গে সঙ্গে
সম্ভাব্য অবস্থার
সংখ্যা সূচকীয়
হারে বৃদ্ধি
পায়।তবে এর
অর্থ এই
নয় যে
কোয়ান্টাম কম্পিউটার সব ধরনের কাজেই
প্রচলিত কম্পিউটারের
চেয়ে দ্রুত।
নির্দিষ্ট কিছু জটিল সমস্যা সমাধানের
ক্ষেত্রে এ
প্রযুক্তি বিশেষ সুবিধা দিতে পারে।ওষুধ উদ্ভাবন থেকে সাইবার নিরাপত্তাশক্তিশালী ও কার্যকর কোয়ান্টাম কম্পিউটার
তৈরি করা
সম্ভব হলে
বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর প্রভাব
পড়তে পারে।
অণু ও
পরমাণুর জটিল
আচরণ অনুকরণ
করার সক্ষমতা
নতুন ওষুধ
উদ্ভাবন এবং
উন্নত উপাদান
তৈরির গবেষণায়
সহায়ক হতে
পারে। পরিবেশবান্ধব
রাসায়নিক প্রক্রিয়া উন্নয়নেও প্রযুক্তিটি নতুন
সুযোগ তৈরি
করতে পারে।এ ছাড়া
জটিল তথ্য
বিশ্লেষণ, মহাকাশ গবেষণা এবং শিল্পকারখানার
বিভিন্ন কার্যক্রমের
সর্বোত্তম সমাধান খুঁজে বের করার
মতো ক্ষেত্রেও
কোয়ান্টাম কম্পিউটিং কাজে লাগতে পারে।
পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক কিছু প্রশ্ন অনুসন্ধানেও
এর সম্ভাবনা
রয়েছে।তথ্য সুরক্ষায় নতুন সম্ভাবনাকোয়ান্টাম কম্পিউটিং সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও
গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। শক্তিশালী
কোয়ান্টাম কম্পিউটার বর্তমানের কিছু এনক্রিপশন
পদ্ধতির জন্য
চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। একই
সঙ্গে কোয়ান্টাম-সুরক্ষিত যোগাযোগ
ও তথ্যপ্রযুক্তি
গড়ে তোলার
গবেষণায়ও এ প্রযুক্তি ভূমিকা রাখতে
পারে।কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এখনো উন্নয়নশীল প্রযুক্তি।
এর পূর্ণ
সক্ষমতা কাজে
লাগাতে পারলে
জটিল বৈজ্ঞানিক
সমস্যা সমাধান
থেকে শুরু
করে আধুনিক
প্রযুক্তির নানা ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত
উন্মোচিত হতে
পারে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗