• ব্যাংকের মোট ঋণের অন্তত ৪ শতাংশ কৃষি খাতে বিতরণ বাধ্যতামূলক।
• আগে বাধ্যতামূলক ঋণের হার ছিল ২ দশমিক ৫ শতাংশ।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আপডেট :
২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬: ২৫
কৃষি ও পল্লি খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৫৪ শতাংশ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর তুলনায় ঋণ বিতরণে গতি আসেনি। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে মোট লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে বিতরণের হার ছিল ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে কৃষি ও পল্লি খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরে এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বিতরণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে বিতরণ করা হয়েছিল ৪ হাজার ৮২৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিতরণ বেড়েছে ২ হাজার ৩২ কোটি টাকা বা ৪২ দশমিক ১১ শতাংশ। তবে লক্ষ্যমাত্রা বেশি বাড়ানোয় মোট লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বিতরণের হার কমেছে।
গত ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে কৃষি ও পল্লি খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪২ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি। এবার লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়ানো হলেও প্রথম দুই মাসের চিত্রে সে অনুযায়ী অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
চলতি অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় মালিকানার বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর জন্য ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। প্রথম দুই মাসে এসব ব্যাংক বিতরণ করেছে ২ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ১১ দশমিক ৫৯ শতাংশ। অন্যদিকে বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বিতরণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা বা ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ উভয় ধরনের ব্যাংকই লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, কৃষিঋণ বিতরণ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও ব্যাংকগুলোর আগ্রহ তুলনামূলক কম। কারণ, কৃষির তুলনায় শিল্পসহ অন্যান্য খাতে কম পরিচালন ব্যয়ে বেশি মুনাফা করার সুযোগ রয়েছে।
বর্তমানে ব্যাংকগুলোর মোট ঋণস্থিতির মাত্র ২ দশমিক ৯৫ শতাংশ কৃষি খাতে রয়েছে। এ অবস্থায় চলতি অর্থবছর থেকে মোট ঋণের অন্তত ৪ শতাংশ কৃষি খাতে বিতরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগে এই হার ছিল আড়াই শতাংশ। পর্যায়ক্রমে জিডিপিতে কৃষির অবদানের সমান, অর্থাৎ ১০ শতাংশের বেশি ঋণ এই খাতে বিতরণ বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের।
কৃষিঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে তদারকি বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য চালু করা হয়েছে ওয়েবভিত্তিক ‘অ্যাগ্রি-ক্রেডিট এমআইএস’ সফটওয়্যার। এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর প্রধান কার্যালয় থেকে খাতভিত্তিক ঋণের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে জেলা পর্যায় থেকেও তথ্য নেওয়া হবে। কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
এদিকে কৃষিঋণ বিতরণের পাশাপাশি খেলাপি ঋণও বেড়েছে। গত আগস্ট শেষে কৃষি খাতে ঋণস্থিতি ছিল ৭০ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ২৯ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। গত জুন শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ১৮ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা বা ২৯ দশমিক ২২ শতাংশ। দুই মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১১ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে জারি করা নতুন ঋণ শ্রেণীকরণ ও প্রভিশনিং নীতিমালার প্রভাব এই বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে কৃষি ও পল্লি খাতে ঋণ আদায় হয়েছে ৭ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ৬ হাজার ৭৩ কোটি টাকা। সে হিসাবে আদায় বেড়েছে ১ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা বা ২২ দশমিক ২১ শতাংশ।

