নতুনপাতা
শারদ ১৪৩৩
নতুন বারান্দা
অদ্ভুত আঁধার
আনজু বানু
২১ অক্টোবর ২০২৬
৪র্থ বর্ষ
আমরা অদ্ভুত এক অন্ধকারময় সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি।
এই উত্তর আধুনিক যুগে এসেও পিছনের দিকে হেঁটে চলেছি। দ্বাদশ শতাব্দীর প্রাচীন ভারতের ইতিহাস আবার নতুন করে প্রত্যক্ষ করছি।
প্রাচীন ভারতের বিহারের তক্ষশীলায় বিখ্যাত ও সুবিশাল নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে "ধর্মগঞ্জ"নামে একটি গ্রন্থাগার ছিল।
আনুমানিক দ্বাদশ শতাব্দীতে অশিক্ষিত বর্বর তুর্কি সেনাপতি বখতিয়ার খিলজী সুবিশাল নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ও গ্রন্থাগারকে দুর্গ ভেবে আক্রমণ করে এবং আগুন লাগিয়ে দেয়।
বেশ কয়েক মাস ধরে জ্বলতে থাকা আগুনে লক্ষ লক্ষ বইয়ে ভরা গ্রন্থাগারটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
তার পরেও ওই গ্রন্থাগারে বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ অধিক থাকার কারণে ব্রাহ্মণ্যবাদীরা আরও একবার আগুন লাগায়।
মোট তিনবার গ্রন্থাগারটি আগুনের শিকার হয়।
তাই মধ্য যুগকে বর্বরদের যুগ বলা হয়।
তখন স্বেচ্ছাচারি রাজা রাজড়ার যুগে বংশ পরম্পরায় রাজা হত।
অর্থ ও ক্ষমতাবলে মানুষের কন্ঠ রুদ্ধ করে হত্যালীলা চালিয় শাসনের নামে শোষণ করত।
এখন গণতন্ত্রের যুগে জনগণের রায়ে শাসন ব্যবস্থা চলে।
এই যুগে দাঁড়িয়ে কে কী বই পড়বে,কে কী বই বেচবে সেটা এখনও যদি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়।
তাহলে মধ্য যুগকে বর্বরদের যুগ বলি কেন?
দেব দেবীকে কে কী নামে ডাকবে কে কি নামে আরাধনা করবে সে তো একান্ত মানুষের অন্তরের গভীরের শ্রদ্ধা ভক্তির ব্যাপার।
এই রকম রাষ্ট্রযন্ত্র ও ফ্যাসিস্ট ধর্মের ধ্বজাধারীরা সক্রেটিসকে কারারুদ্ধ করে হেমলক বিষ দিয়ে হত্যা করেছিল।
সমস্ত জ্ঞান বিজ্ঞানকে অস্বীকার করে সৈরাচারী রাজা ও ধর্মগুরুরা
গ্যালিলিওকে গৃহবন্দি করেছিল।
এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও
সেই ট্রাডিশন সমানে চলেছে।
