আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান। আইডিবিআই ব্যাঙ্কের মালিকানা হস্তান্তরের পথে আরও এক ধাপ এগোল কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে কানাডার ফেয়ারফ্যাক্স ফিনানশিয়াল হোল্ডিংসের কাছে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের ৬০.৭২ শতাংশ অংশীদারিত্ব বিক্রির প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই চুক্তির মূল্য ৫২,৮৭৮ কোটি টাকা। ভারতীয় বংশোদ্ভূত কানাডীয় ধনকুবের প্রেম ওয়াটসার সমর্থনপুষ্ট এই সংস্থার হাত ধরে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের মালিকানা বদল হতে চলেছে। আগামী ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই চুক্তি সম্পন্ন হলে ভারতের আর্থিক ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত বৃহত্তম প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআইয়ের নজির তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই পদক্ষেপকে সরাসরি বিলগ্নিকরণ বলতে নারাজ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তাঁর কথায়, এটি বিলগ্নিকরণ নয়, বরং একটি ‘কৌশলগত পুনর্গঠন’। কারণ, আইডিবিআই ব্যাঙ্কে কেন্দ্রীয় সরকারের অংশীদারিত্ব পুরোপুরি শেষ হয়ে যাচ্ছে না।
একসময় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত ছিল আইডিবিআই ব্যাঙ্ক। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক দুরবস্থার কারণে ব্যাঙ্কটির পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে জীবন বিমা নিগম বা এলআইসি ব্যাঙ্কটির প্রোমোটার হয়ে ওঠে। এর ফলে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের মালিকানা কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে এবং ব্যাঙ্কটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের মর্যাদা পায়।
চুক্তির আগে আইডিবিআই ব্যাঙ্কে এলআইসির অংশীদারিত্ব ছিল ৪৯.২৪ শতাংশ। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ছিল ৪৫.৪৮ শতাংশ শেয়ার। দুই পক্ষের সম্মিলিত অংশীদারিত্ব ছিল ৯৪.৭১ শতাংশ। নতুন চুক্তি কার্যকর হলে এলআইসির হাতে থাকা শেয়ারের পরিমাণ কমে প্রায় ১৯ শতাংশে দাঁড়াবে। একইভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের অংশীদারিত্ব কমে হবে প্রায় ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ, মালিকানা হস্তান্তরের পরেও ব্যাঙ্কটির সঙ্গে কেন্দ্র ও এলআইসির সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন হবে না।
এই চুক্তির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। ফেয়ারফ্যাক্সের সঙ্গে স্বাক্ষরিত শেয়ার ক্রয় চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত ব্যাঙ্কটির নাম অপরিবর্তিত রাখতে হবে। অর্থাৎ, নতুন প্রোমোটার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরেও ওই সময়সীমার মধ্যে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের নাম বদলাতে পারবে না ফেয়ারফ্যাক্স।
সব মিলিয়ে, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত ভারতের ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগের নতুন অধ্যায় খুলতে পারে। একই সঙ্গে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের মালিকানা কাঠামোতেও বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। তবে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর ব্যাঙ্কটির পরিচালনা, ব্যবসায়িক কৌশল এবং গ্রাহক পরিষেবায় কী ধরনের পরিবর্তন আসে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।
https://www.youtube.com/watch?v=JwFdq_tA9cE
