কনসার্ট, বাউল গান, নাটক, সিনেমা প্রদর্শনী, নৌকাবাইচ ও পয়লা বৈশাখ উদ্যাপনসহ আইনসম্মত সাংস্কৃতিক আয়োজনে বেআইনি বাধা, হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতা ঠেকাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রিটের বিষয়টি জানান আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন অভি। রিটে শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী, আয়োজক ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অননুমোদিত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বেআইনি হস্তক্ষেপ থেকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রিটে কনসার্ট ও সংগীতানুষ্ঠান, লোকসংগীত, বাউল গান, নাটক, সিনেমা প্রদর্শনী, নৌকাবাইচ, পয়লা বৈশাখ উদ্যাপন এবং অন্যান্য শান্তিপূর্ণ সাংস্কৃতিক উৎসবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব আয়োজনে বাধা, ভয়ভীতি, হুমকি, ভাঙচুর, সহিংসতা ও জবরদস্তি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাধা, হুমকি এবং জোরপূর্বক অনুষ্ঠান বন্ধের প্রতিবাদে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন সাদ্দাম হোসেন অভি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবকে ওই নোটিশ পাঠানো হয়।
নোটিশে বলা হয়, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বাধীন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে হুমকি ও বেআইনি বাধার কারণে অনুষ্ঠান পণ্ড বা বাতিল হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে ২০২৪ সালের আগস্টে কিশোরগঞ্জে স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর আপত্তির মুখে কনসার্ট বাতিল, সিলেটের বিয়ানীবাজারে সুনাই নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি এবং ঢাকায় শিল্পী অনুপম রায়ের কনসার্ট শেষ মুহূর্তে স্থগিত হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করা হয়।
নোটিশে সংবিধানের ৩১, ৩২, ৩৭ ও ৩৯ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়, নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা এবং মতপ্রকাশের মৌলিক অধিকার রয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, কোনো ব্যক্তি বা বেসরকারি গোষ্ঠীর আপত্তির কারণে রাষ্ট্র বা প্রশাসন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাতিল বা বন্ধ করতে পারে না। নিরাপত্তাঝুঁকি থাকলে অনুষ্ঠান বন্ধ করার পরিবর্তে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা পুলিশের আইনি দায়িত্ব।
