মোঃ মিরাজুল ইসলাম
পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ (স্বরুপকাঠী) থানার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথ ঝুঁকিপূর্ণ; শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে সড়কটি দুই থানার মানুষের জীবনরেখা নান্দুহার–জরুরবাড়ী থেকে মিয়ারহাট বন্দর পর্যন্ত সড়কটি পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ (স্বরুপকাঠী) থানার সুটিয়াকাঠী ইউনিয়নের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ বাহন।
দুই থানার মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিক্ষার্থীদের যাত্রাপথের জন্য এটি অপরিহার্য। পার্শ্ববর্তী বানারিপাড়া উপজেলা থেকেও মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটি ভাঙাচোরা এবং প্রতিনিয়ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
মিয়ারহাট ও ইন্দেরহাট বাজারকে কেন্দ্র করে দুটি কলেজ এবং বাজারকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য রয়েছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। তবে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থী, রোগী এবং ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি।
শিক্ষার্থীদের জন্য চ্যালেঞ্জ
মোঃ ইমরান হাসান, স্কুল শিক্ষক: “দূর-দূরান্ত থেকে আসা ছাত্রীরা এই ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে স্কুলে আসে। রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে তাদের জন্য সময়মতো স্কুলে পৌঁছানো সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছে। প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।” শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন যাতায়াতের সময় অনেক বাড়ছে, যার ফলে ক্লাসে উপস্থিতি এবং পড়াশোনার কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে। অভিভাবকরা জানিয়েছেন, “ছাত্রীরা প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবহার করতে বাধ্য। এটি তাদের নিরাপত্তা ও শিক্ষাজীবনের জন্য উদ্বেগের বিষয়।”
ব্যবসায়ীদের যাতায়াতের সমস্যা
মোঃ আলমগীর হোসেন, ব্যবসায়ী: “আমাদের বাজারে প্রতিদিন যাতায়াত করা এখন বড় ধরনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাঙাচোরা রাস্তা চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ করেছে। আমাদের ব্যবসা ও দৈনন্দিন কার্যক্রমও এতে প্রভাবিত হচ্ছে।”
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে প্রতিদিনের যাতায়াত ধীর এবং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রোগী ও বয়স্কদের দুর্ভোগ
রফিকুল ইসলাম, স্থানীয় বাসিন্দা: “জরুরি সময়ে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। যানবাহন ধীরগতিতে চলতে বাধ্য হয়, ফলে সময়মতো চিকিৎসা পাওয়া দেরি হয়।” বৃদ্ধ এবং অসুস্থ মানুষদের প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্য এই রাস্তা ব্যবহারে বিপদে পড়তে হচ্ছে।
রাস্তার বেহাল অবস্থার প্রভাব
শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য চরম দুর্ভোগের সম্মুখিন। পার্শ্ববর্তী থানা বানারিপাড়া উপজেলা থেকেও মানুষ এই রাস্তাটি ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ এই এলাকার জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের আহ্বান ও দাবী
“যদি দ্রুত সংস্কার করা হয়, আমাদের জীবনযাত্রা অনেক সহজ হয়ে যাবে। শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করতে পারবে।” স্থানীয়রা মনে করছেন, সড়ক সংস্কার না হলে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার হার বাড়বে এবং দৈনন্দিন জীবন আরও কঠিন হবে।
প্রতিকার ও সমাধানের প্রস্তাবনা
নান্দুহার–জরুরবাড়ী–মিয়ারহাট–ইন্দেরহাট সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা। দুই থানার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্যের কার্যক্রমের গতিশীলতা পুনঃস্থাপন। সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা। শিক্ষার্থী ও রোগীদের নিরাপত্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করা। স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করা।
