দর্শক খরায় চিরকুট, কাট-পিস ও স্নেহের বন্ধন, উঠছে না বিদ্যুৎ বিলের খরচ
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২১ পিএম
আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের প্রেক্ষাগেৃহে মুক্তি পেয়েছে তিন সিনেমা ‘চিরকুট’, ‘স্নেহের বন্ধন’, ও ‘কাট-পিস’। সিনেমাগুলো ঘিরে নির্মাতা, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের প্রত্যাশা থাকলেও প্রেক্ষাগৃহে দর্শক খরায় ভূগছে সিনেমাগুলো।
তিন সিনেমার টিকিট বিক্রি এবং দর্শক উপস্থিতি নিয়ে হতাশ খোদ হল মালিকরা। সিনেমাগুলো চালিয়ে বিদ্যুৎ বিলের খরচও উঠছে না বলে হতাশার কথা জানিয়েছেন তারা। কোথাও দর্শকের অভাবে শো করা হয়েছে বাতিল, আবার কোথাও হাতেগোনা টিকিট বিক্রির আয় দিয়ে মেটানো যাচ্ছে না বিদ্যুৎ, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও কর্মীদের খরচ। ফলে সিনেমা প্রদর্শন করেও লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রেক্ষাগৃহ কর্তৃপক্ষকে।
১৮ অক্টোবর স্টার সিনেপ্লেক্সের ওয়েব সাইট ঘুরে দেখা যায়- ‘চিরকুট’ সিনেমায় বালি অর্কেড চট্টগ্রামে সাড়ে ৭টার শোতে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত টিকিট বিক্রি হয়েছে মোট ৪টি, স্টার সিনেপ্লেক্স বসুন্ধরায় ১৩টি, রাজধানীর সেন্টারপয়েন্ট উত্তরায় সাড়ে ৫টার শোতে ২টি টিকিট বিক্রি হয়েছে।
রাজশাহীর গ্র্যান্ড রিভারভিউ সিনেপ্লেক্সে চিরকুট সিনেমার টিকিট বিক্রি হয়েছে মোট ২৫টি। ‘কাট-পিস’ সিনেমায় ক্ষেত্রে সনি স্কয়াস মিরপুরে ৭টা ১৫ এর শোতে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত কোনো টিকিটই বিক্রি হয়নি। এমন অবস্থায় থাকলে শেষ পর্যন্ত শো বাতিল হবে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে দৈনিক খবরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেছেন দেশের বিভিন্ন হল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন। স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া ও মার্কেটিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সিনেমাগুলোর ফলাফল আশানুরূপ নয়। আমাদের যে প্রত্যাশা ছিল তার পূরণ হয়নি এবং হচ্ছে না। তবুও আমরা বাংলা সিনেমার প্রতি দায়বদ্ধতা এবং দায়িত্ববোধ থেকেই সিনেমাগুলো প্রদর্শন করছি। সিনেপ্লেক্সকে টার্গেট করে যারা সিনেমা নির্মাণ করেন, তাদের প্রতি অনুরোধ আপনারা সিনেপ্লেক্সের দর্শকরা কি চায় এটা বুঝে সিনেমা নির্মাণ করুন। শুধু সিনেমা নির্মাণ করে সিনেপ্লেক্সে মুক্তি দিলেই সেটা চলবে না। দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে ফেরাতে হলে দর্শকের রুচি ও পছন্দের বিষয়টি মাথায় রেখে সিনেমা নির্মাণ করতে হবে।’
হতাশার কথা জানিয়েছেন ঢাকার কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাসের প্রতিষ্ঠাতা মির্জা আবদুল খালেক। তার তথ্য অনুযায়ী, ‘স্নেহের বন্ধন’-এর একটি প্রদর্শনীতে বিক্রি হওয়া ৩৭টি টিকিটের মধ্যে ৩৫টিই কিনেছেন সিনেমাটির প্রচারণায় আসা প্রযোজক, পরিচালক, অভিনয়শিল্পী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সাধারণ দর্শকের কাছ থেকে এসেছে মাত্র দুটি টিকিটের বিক্রি। একই দিনে ‘কাট-পিস’-এর একটি প্রদর্শনীতে বিক্রি হয়েছে মাত্র আটটি টিকিট। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, দর্শক না এলে প্রদর্শনী বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
শুধু টিকিট বিক্রির সংকট নয়, সিনেমা চালানোর নিয়মিত খরচ নিয়েও উদ্বিগ্ন হলমালিকেরা। লায়ন সিনেমাসের কর্ণধার মির্জা আবদুল খালেক বলেন, ‘সিনেমা প্রদর্শনের আগে পোস্টার ছাপানোসহ প্রচারণার নানা খাতে অর্থ ব্যয় করতে হয়। কিন্তু দর্শক না এলে সেই বিনিয়োগের সুফল মেলে না। তার ভাষ্য, ‘অনুরোধে সিনেমা চালাতে গিয়ে অনেক সময় হলমালিকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।’
সিনেমার মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন লায়ন সিনেমাসের এই কর্ণধার। তার মতে, একজন দর্শককে সিনেমা দেখতে গেলে টিকিটের বাইরে যাতায়াত ও অন্যান্য খরচও করতে হয়। সব মিলিয়ে যে অর্থ ব্যয় হয়, সিনেমা দেখে তার যথাযথ মূল্য না পেলে দর্শক প্রেক্ষাগৃহে আসতে আগ্রহী হবেন না।
রাজশাহীর গ্র্যান্ড রিভারভিউ সিনেপ্লেক্সেও একই চিত্র। প্রতিষ্ঠানটির বিভাগীয় প্রধান (এইচওডি) মেহেদি হাসানের তথ্য অনুযায়ী, টিকিট বিক্রি না হওয়ায় এখন পর্যন্ত ‘কাট-পিস’-এর কোনো শো চালানো সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, ‘চিরকুট’-এর প্রতিটি প্রদর্শনীতে গড়ে ২০ থেকে ২৫টি টিকিট বিক্রি হচ্ছে। এই আয় দিয়ে প্রেক্ষাগৃহের নিয়মিত ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। মেহেদির মতে, পর্যাপ্ত প্রচারণার অভাবে ‘চিরকুট’ প্রত্যাশিতভাবে দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। পূজার ছুটি শেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় খুললে দর্শকসংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশা করছেন তিনি।
বরিশালের অভিরুচি সিনেমা হলেও সিনেমাগুলোর প্রদর্শনীতে দর্শকসংকট দেখা গেছে। স্নেহের বন্ধনের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রথম দিন দুপুরের শোতে দর্শক ছিলেন ছয়জন, সন্ধ্যায় নয়জন। শনিবার দুপুরের শোতে চারটি এবং বিকেলের শোতে মাত্র দুটি টিকিট বিক্রি হয়। দর্শক না থাকায় রাতের ও বিশেষ প্রদর্শনী বন্ধ রাখতে হয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে জানান তিনি। তার মতে, বরিশালে এমনিতেই সিনেমার বাজার সীমিত; ভালো গল্পের সিনেমা হলে কিছু দর্শক পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, উল্কা সিনেমা হলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিক উদ্দিন জানান, পূজায় প্রত্যাশা অনুযায়ী দর্শক না থাকলেও প্রথম দুই দিনে প্রায় ২০ হাজার টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে। তৃতীয় দিনে দর্শকসংখ্যা কমেছে। তবে বাংলা সিনেমা নিয়ে তারা এখনও আশাবাদী।
পূজাকে কেন্দ্র করে মুক্তি পাওয়া তিন সিনেমার গল্প ও বিষয়বস্তুতে ছিল ভিন্নতা। পোশাকশিল্পের অন্ধকার জগত নিয়ে ইফফাত জাহান মম নির্মাণ করেছেন ‘কাট-পিস’। এতে অভিনয় করেছেন সিফাত আমিন শুভ, রাফাহ নানজীবা তোরসা প্রমুখ। নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সত্য ঘটনা ও ক্যাম্পাসের স্মৃতিনির্ভর সিনেমা ‘চিরকুট’ পরিচালনা করেছেন মুনতাসির আকিব। এতে নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন নির্মাতার স্ত্রী আজিজুন মিম। এতে আরও অভিনয় করেছেন শ্যামল মাওলা, কাজী নওশাবা আহমেদ, সুমন পাটোয়ারী প্রমুখ। জয় চৌধুরী ও মৌ খান অভিনীত পারিবারিক গল্পের সিনেমা ‘স্নেহের বন্ধন’ পরিচালনা করেছেন কামরুজ্জামান।
তবে সিনেমাগুলো থেকে দর্শকরা মুখ ফিরিয়ে নিলেও সিনেমা সংশ্লিষ্টরা সোশ্যাল মিডিয়ায় বলছেন ভিন্নকথা। প্রচার-প্রচারণায় ঢাকঢোল পিটিয়ে নিজেরাই নিজেদের সিনেমাকে হিট তকমা দিচ্ছে প্রতিনিয়ত।
আরও পড়ুন
রুপালি গিটার ফেলে যাওয়ার আইয়ুব বাচ্চুর আট বছর
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->বাংলাদেশের রকসংগীতের আইকনিক রকস্টার আইয়ুব বাচ্চু। গায়ক হিসেবে যেমন শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন, তেমনি গিটারিস্ট হিসেবেও অর্জন করেছেন অম্লান খ্যাতি। ভক্তদের কাছে তিনি রুপালি গিটারের জাদুকর। তার কণ্ঠে প্রেম, বিরহ আর জীবনের গল্প শুনে কেটেছে কয়েক প্রজন্মের স্বর্ণালী সময়। সেসব সময়ের অবসান ঘটিয়ে ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর ৫৬ বছর বয়সে রুপালি গিটার ফেলে তিনি চলে গেলেন বহুদূরে। আজ এই কিংবদন্তির মৃত্যুর আট বছর পূর্ণ হলো।
১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্ম আইয়ুব বাচ্চুর। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি তুমুল আগ্রহ ছিল তার। সেই আগ্রহ থেকেই ধীরে ধীরে গানের জগতে নিজের জায়গা তৈরি করেন। গায়ক, গিটারিস্ট, সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে তিনি হয়ে উঠেন অনন্য। বাংলা ব্যান্ডসংগীতের বিকাশে বিশেষ অবদান তাকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি।
১৯৯১ সালে তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠে ব্যান্ড ‘লাভ রানস ব্লাইন্ড’, যা এলআরবি নামে পরিচিত। ব্যান্ডটির গান দ্রুত শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে যায়। এলআরবির মাধ্যমে আইয়ুব বাচ্চু নিজের সংগীতভাবনা তুলে ধরার সুযোগ পান। তার কণ্ঠের পাশাপাশি গিটারের ব্যবহারও শ্রোতাদের নজর কাড়ে। মঞ্চে গিটার হাতে তার পরিবেশনা ছিল ভক্তদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ।
আইয়ুব বাচ্চুর গান শুনলে অনেকের মনে পড়ে যায় জীবনের কোনো ঘটনা, কোনো মানুষ কিংবা ফেলে আসা সময়ের কথা। ‘সেই তুমি’, ‘চলো বদলে যাই’, ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো’-এমন অনেক গান বছরের পর বছর ধরে শ্রোতাদের কাছে পরিচিত।
আইয়ুব বাচ্চুর পরিচয়ের সঙ্গে রুপালি গিটারের নামও জড়িয়ে আছে। গিটার বাজানো তার কাছে শুধু মঞ্চের পরিবেশনার অংশ ছিল না, ছিল নিজের সংগীতভাবনা প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। গানের মধ্যে গিটারের সুরকে যেভাবে তিনি তুলে ধরতেন, তা তার সংগীতের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছিল।
প্রাপ্তি হিসেবে তার ঝুলিতে রয়েছে, ছয়টি মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার, এলআরবির সঙ্গে একটি সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড এবং ২০০৪-এর শ্রেষ্ঠ পুরুষ কণ্ঠশিল্পী বিভাগে বাচসাস পুরস্কার। ২০১৭ সালে টেলি সিনে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার এবং সঙ্গীতে বিশেষ অবদানের জন্য তাকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করা হয়।
আরও পড়ুন
পরীমনির ক্ষোভ
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->একটি ফটোকার্ডে দুঃখ প্রকাশ করলেই কি সব ক্ষত মুছে যায়? এমন প্রশ্ন তুলে দেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাছরাঙার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনি। তার অভিযোগ, আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করা হলেও এতে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে সৃষ্ট ক্ষতির কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে ‘সরি একটা জাতীয় মলম’ বলেও মন্তব্য করেন এই অভিনেত্রী। ১৬ অক্টোবর দিবাগত রাতে পরীমনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। সেখানে দীর্ঘ সময় কথা বলেন এই নায়িকা। শনিবার (১৭ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ‘আপনাদের এই জাস্ট একটা ফটোকার্ডের দুঃখ প্রকাশ কোনো কাজে দিচ্ছে না একদমই।’
পরীমনির অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের কাজ কিংবা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কোনো পোস্ট করলেই তাকে নেতিবাচক মন্তব্যের মুখে পড়তে হচ্ছে। এমনকি তার সন্তানদের ছবিও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য থেকে রেহাই পাচ্ছে না।
এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী লেখেন, ‘আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো রকম কোনো পোস্ট করতে পারছি না। হোক সেটা আমার কাজের বা ব্যক্তিগত। এমনকি আমার বাচ্চাদের ছবিও বাদ যাচ্ছে না হাজার হাজার হেটিং কমেন্টস থেকে।’
এ ঘটনার কারণে নিজের মানসিক শান্তি ও পেশাগত জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন ঢালিউডের এই তারকা অভিনেত্রী। তার ভাষায়, ‘আমার জীবনের মানসিক শান্তি নষ্ট করে দিলেন! আমার কাজ নষ্ট করে দিলেন। এর পর কী বাকি থাকল আর।’
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পরী। তার অভিযোগ, এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কার্যকর পদক্ষেপের দৃশ্যমান অগ্রগতি নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন।
ফেসবুক স্ট্যাটাসের শেষ দিকে টেলিভিশনটির প্রতি নিজের ক্ষোভ আরও স্পষ্ট করে তিনি লেখেন, ‘আমার কাছে অপরাধী তো এখন আপনারা।’
উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোবর মাছরাঙা টেলিভিশনের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজে অভিনেত্রী পরীমনি ও মেহজাবীন চৌধুরীর আপত্তিকর ফেক ভিডিও ক্লিপ প্রকাশের ঘটনা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ভিডিও দুটি ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা ও বিতর্ক থামছেই না।
আরও পড়ুন
দুই চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের ‘সাঁকোটা দুলছে’
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->বাংলাদেশের স্বাধীন চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে এগিয়ে চলেছে তরুণ নির্মাতা ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র The Blind Girl and an Elephant (বাংলা নাম: সাঁকোটা দুলছে)। ২০২৬ সালে চীনের সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিশ্ব প্রিমিয়ার ও শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রহণের পুরস্কার অর্জনের পর চলচ্চিত্রটি নির্বাচিত হয়েছে পোল্যান্ডের ৩৪তম EnergaCAMERIMAGE আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের দুটি পৃথক প্রতিযোগিতা বিভাগে। একই সঙ্গে পরিচালক ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদ ও চিত্রগ্রাহক সামিউল করিম সুপ্তক নিজ নিজ বিভাগে মর্যাদাপূর্ণ গোল্ডেন ফ্রগ (Golden Frog) পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন।
অন্যদিকে, মিশরের ৪৭তম কায়রো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের International Critics’ Week Competition বিভাগেও নির্বাচিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। সেখানে Shadi Abdel Salam Award for Best Film এবং Fathy Farag Award – Special Jury Prize—এই দুটি পুরস্কারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ছবিটি।
বাংলাদেশি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মনপাচিত্র এবং জার্মান প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান Mogador Film-এর যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি।
চলচ্চিত্রটির প্রযোজক অভিনেতা মনোজ প্রামাণিক। সহযোগী প্রযোজক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন জার্মান চলচ্চিত্র প্রযোজক ক্রিস্টোফ থোকে (Christoph Thoke)। সহপ্রযোজক ফজলে হাসান শিশির এবং পরামর্শক প্রযোজক হিসেবে রয়েছেন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত চলচ্চিত্র সমালোচক ও প্রোগ্রামার ডার্সি প্যাকুয়েট।
পোল্যান্ডের তোরুন শহরে ৭ থেকে ১৪ নভেম্বর ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য ৩৪তম EnergaCAMERIMAGE আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সাঁকোটা দুলছে নির্বাচিত হয়েছে Directors’ Debuts Competition এবং Cinematographers’ Debuts Competition—দুটি পৃথক প্রতিযোগিতা বিভাগে।
Directors’ Debuts Competition বিভাগে পরিচালনার জন্য গোল্ডেন ফ্রগের মনোনয়ন পেয়েছেন ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদ। অন্যদিকে, Cinematographers’ Debuts Competition বিভাগে চিত্রগ্রহণের জন্য মনোনীত হয়েছেন সামিউল করিম সুপ্তক।
মিশরের রাজধানী কায়রোতে ১১ থেকে ২০ নভেম্বর ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য ৪৭তম Cairo International Film Festival-এর International Critics’ Week Competition বিভাগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আরও পাঁচটি চলচ্চিত্রের সঙ্গে নির্বাচিত হয়েছে ‘সাঁকোটা দুলছে’।
এই বিভাগে চলচ্চিত্রটি Shadi Abdel Salam Award for Best Film এবং Fathy Farag Award – Special Jury Prize—দুটি পুরস্কারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। কায়রো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব আরব বিশ্ব ও আফ্রিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব। The Blind Girl and an Elephant বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদে বসবাসরত তিন নারীর জীবন, স্বপ্ন এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষার গল্প। কুসংস্কার, ধর্মীয় রক্ষণশীলতা, পুরুষতান্ত্রিক সামাজিক কাঠামো ও নানা বিধিনিষেধের মধ্যে নিজেদের মতো করে বাঁচার পথ খোঁজে তারা।
চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদ। চিত্রগ্রহণ করেছেন সামিউল করিম সুপ্তক। সম্পাদনায় রয়েছেন হাসিব আহমেদ। রং বিন্যাস করেছেন চিন্ময় রয়, শব্দ পরিকল্পনা ও মিশ্রণে রয়েছেন শৈব তালুকদার এবং সংগীত পরিচালনা করেছেন সায়ন মাংসাং।
অভিনয় করেছেন সানজিদা আক্তার স্বর্ণা, তাহমিদা রহমান তৌহিদা, সুমাইয়া আক্তার, মুনসিফ মিম, অশোক বেপারী, পঙ্কজ পালিত, রবিউস সানিসহ আরও অনেকে।
আরও পড়ুন
ভাঙা হলো অজয় দেবগনের বাংলো
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->বলিউড তারকা অজয় দেবগন যখন ‘দৃশ্যম ৩’-এর সাফল্যে ভাসছেন ঠিক তখনই ভেঙে ফেলা হলো তার প্রিয় জুহুর বাংলো। এই দুঃসংবাদের কারণে সিনেমার সাফল্য এবং পূজার আনন্দ সবই ম্লান হয়ে গেছে এই অভিনেতার।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য। অজয়ের বাংলোটি জুহুর কাপোল কো অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটিতে অবস্থিত। ৭ হাজার ৮০২ বর্গ ফুট আয়তনের বাড়ির ভেতরে করা হয়েছে নানা কাজ। কিন্তু বাড়িটি নিয়ে আপত্তি মুম্বাইয়ের বৃহন্মুম্বাই পুরসভার। তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া ওই বাংলোয় একাধিক নির্মাণ এবং সংস্কারের কাজ করেছেন অজয়।
তারা জানান, গেল ১০ সেপ্টেম্বর বাড়িটি প্রসঙ্গে ৩৫৪ এ ধারায় নোটিশও দেওয়া হয় অজয়কে। নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে বলা হয়। সেইসঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুরসভায় জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু অভিনেতা বিষয়টি আমলে নেননি। বন্ধ করেননি কাজও। সে কারণেই আজ মাঠে নামে পুরসভা। ভাঙা হয় বাড়ির অবৈধ নির্মাণ।
