মুক্তধারা
উৎসব ১৪৩৩
গল্প
বস্ত্রদান
সোমা দত্ত
১৮ অক্টোবর ২০২৬
৪র্থ বর্ষ
পুজোপ্যান্ডেলের পাশ ঘেঁষে বিশাল লাইন। বস্ত্রদান হচ্ছে। বিপিএল সীমার নীচে কত মানুষ বেঁচে থাকে তার পরিসংখ্যান এইসব লাইনেই থাকে।। অনিরুদ্ধ সেন ক্লাবের পক্ষ থেকে মহিলাদের শাড়ি, পুরুষদের পাঞ্জাবি দেবেন। প্রচণ্ড গরম। হাঁসফাঁস করছে অনিরুদ্ধ-র ফর্সা শরীর। দরদর করে ঘামছেন। লাইনের শেষের দিকে চোখ রেখে পাশের ছেলেটিকে ডেকে বললেন, দশমিনিটে যা করার করে নাও। বাকিদের তোমরা দিয়ে দিয়ো। মিটিং আছে জনকল্যাণ সমিতির। ছেলেটি তৎপর হয়ে উঠল। মাইকে ঘোষণা শুরু হল: “অনিরুদ্ধ সেন বস্ত্র দান করছেন। আপনারা প্রত্যেকে শৃঙ্খলা বজায় রেখে অপেক্ষা করুন।” ক্যামেরার ফ্ল্যাশ লাইট ঝলসে উঠল। ছাতা ফেলে আলোর প্রতিফলন বাড়ানো হচ্ছে। সরাসরি বড়ো স্ক্রিনে দেখানো হচ্ছে সবকিছু। স্মিত হেসে অনিরুদ্ধ প্রত্যেকের হাতে তুলে দিচ্ছেন দানসামগ্রী। একটি বাচ্চাকে তুলে নিলেন মা-এর কোল থেকে। একজনকে ইশারায় বাচ্চাটির হাতে সন্দেশ দিতে বললেন। ছবি উঠল। অনিরুদ্ধ বাচ্চাটিকে মা-এর কোলে ফিরিয়ে দিলেন। সহকারী সুমন তার পাঞ্জাবির ময়লা ঝেড়ে দিল রুমাল দিয়ে।
আর মাত্র কয়েকজন বাকি। হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে একটু ব্যস্ত হয়ে পড়লেন অনিরুদ্ধ। ঠিক সেই সময় কোত্থেকে এক ছেঁড়া জামা কাপড় পরা আধ-পাগল লোক এসে জড়িয়ে ধরল অনিরুদ্ধকে। সঙ্গের সাঙ্গোপাঙ্গোরা ব্যতিব্যস্ত হয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিতেই অনিরুদ্ধের কানে এল লোকটির গলা, "চিনতে পারলি অনি? তোকে আমি খুন করব।" দুই হাত দিয়ে ইশারা করে দাঁত বার করে বিশ্রী হাসছে লোকটা। একনজর তাকাতেই অনিরুদ্ধ চিনলেন। এ তো সইফুদ্দিন। বিপক্ষ দলের হয়ে লড়ত এর বাবা। ওছা আদর্শের জনদরদি রাজনীতি। ওর বাবাকে সরিয়েই তো অনিরুদ্ধ…...
লোকটা এখনো বেঁচে? পাশে দাঁড়ানো সহকারী সুমনকে নীচু সুরে কিছু বললেন অনিরুদ্ধ.....
বিশ্রী ক্যাওস চারদিকে। কয়েকজন মিলে নোংরা পাগলটাকে ধরে নিয়ে গেল।
