Published on
:
1 min read
এই সময়, কল্যাণী: বছর তিনেক আগে কল্যাণী আইটিআই মোড়ের ১৪৮ ফুট লম্বা মালয়েশিয়ার 'টুইন টাওয়ার' অনুকরণে দুর্গাপুজা প্যান্ডেল ও লেজ়ার শো নজর কেড়েছিল রাজ্যবাসীর। জেলার পুজোর সেরার তকমার স্বীকৃতিও পেয়েছিল সেই প্যান্ডেল। এর পরে কখনও থাইল্যান্ডের 'অরুণ মন্দির', কখনও চিনের 'গ্র্যান্ড লিসবোয়া হোটেল'। বড় বাজেটের পুজো করে কলকাতার পুজোকেও বেশ কয়েক বছর ধরে টক্কর দিয়ে আসছে কল্যাণী আইটিআই মোড়ের পুজো।
এ বারও উৎসবের মেজাজে তারা। মাটির তৈরি মৃন্ময়ী মূ্র্তিতে প্রাণ প্রতিষ্টার পরে দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু হয়ে গিয়েছে। এ বছর মাটির তৈরি সাবেকি প্রতিমা আনা হয়েছে কুমোরটুলির বিখ্যাত শিল্পী প্রদীপ রুদ্র পালের থেকে। পাঁচটি সিংহের উপরে লাল বেনারসিতে শাড়িতে তিনি সুসজ্জিত। প্রতিমাকে সাজানো হয়েছে ১২০ কেজি সোনার গয়নায়। এত দিন পুজোর আয়োজন করেছিল লুমিনাস ক্লাব। এ বার আয়োজন করেছে 'কল্যাণী আইটিআই মোড় ব্যবসায়ী সর্বজনীন দুর্গাপুজা পরিচালন সমিতি'। পুজোর দায়িত্ব ফিরে পেয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। দারুণ খুশি তাঁরা। হইহই করে চলছে পুজো। কমিটির সহ-সভাপতি তারক সরকার বলেন, 'এ বারের পুজো ৩৪ বর্ষে পদার্পণ করল। প্যান্ডেল তৈরি হচ্ছে মিয়ানমারের 'স্বে তাও মিয়াত' বৌদ্ধ মন্দির বা প্যাগোডার অনুকরণে। অন্দরসজ্জা ফুটিয়ে তুলতে বাঁকুড়া, মেদিনীপুরের ৭০ জন নামী গ্রামীণ শিল্পী একযোগে কাজ করেছেন। গ্রাম বাংলার পিতল, কাঁসার থালা, স্টিল, রুপোর চামচ, বাটি, থালা দিয়ে তৈরি হয়েছে নানা কারুকার্য-সহ ভিন্ন বিভঙ্গের মূর্তি। প্যান্ডলের উচ্চতা ১৬০ ফুট। প্রায় এক কোটি ৩০ লক্ষ টাকা বাজেট। মৃন্ময়ী মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে সব আচার মেনে উৎসবের আনন্দে মায়ের পুজো দেখার শুরু করেছেন দর্শনার্থীরা।'
লুমিনাস ক্লাবের হাত ধরেই এই পুজোর প্রচার ছড়িয়েছিল ভিন রাজ্যে। এ প্রসঙ্গে তারক বলেন, 'ওই ক্লাব আগে এই পুজোতে ছিল না। মূলত এলাকার ব্যবসায়ীরাই এখানকার পুজো করতেন। ক্লাব পরে যুক্ত হয়। ক্লাবের পুজো হতো ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গিতে উৎসব পালনে। এ বার সেটা হবে না।'
