Published on
:
2 min read
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মহাকাব্যিক ইনিংসগুলির কথা উঠলেই ব্রায়ান লারার অপরাজিত ৫০১ কিংবা স্যর ডন ব্র্যাডম্যানের ৪৫২ রানের রূপকথা ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখে ভাসে। এ বার সেই অভিজাত ক্রিকেট ক্লাবের দরজা খুলে গেল এক ভারতীয় তরুণ ব্যাটারের জন্য। রঞ্জি ট্রফির ২০২৬-২৭ মরশুমে এক অবিশ্বাস্য ও অবিস্মরণীয় কীর্তি স্থাপন করলেন মিজ়োরামের বাঁহাতি ব্যাটার চিন্ময় সুতার। সোমবার, ১৯ অক্টোবর নাগাল্যান্ডের সোভিমায় নাগাল্যান্ড ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রতিপক্ষ বোলারদের নিয়ে ছেলেখেলা করে রঞ্জি প্লেট ডিভিশনের খেলায় অপরাজিত ৪০০ রানের ম্যারাথন ইনিংস উপহার দিলেন তিনি।
৭৮ বছর পর রেকর্ড বইয়ে নাম
ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে কোনও ব্যাটারের ব্যক্তিগত ৪০০ রান ছোঁয়ার ঘটনা হাতেগোনা। শেষবার এমন ঘটনা ঘটেছিল স্বাধীনতার ঠিক পরপরই—১৯৪৮ সালের ডিসেম্বরে। সেবার পুণের মাটিতে কাথিয়াওয়াড়ের বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্রের হয়ে অপরাজিত ৪৪৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ভাউসাহেব বাবাসাহেব নিম্বলকর (বিবি নিম্বলকর)। দীর্ঘ ৭৮ বছর ধরে অক্ষত থাকা সেই ইতিহাসের পাতায় সোমবার নিজের নাম লিখলেন চিন্ময়।
মুম্বইয়ের ক্লাব ক্রিকেট থেকে উঠে আসা এই বাঁহাতি প্রতিভা মিজ়োরামে যোগ দেওয়ার আগে বিজয় হাজারে ট্রফিতে খেলেছেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের অভিষেক ম্যাচে ৯৯ রানে রান-আউট হয়ে সেঞ্চুরি হাতছাড়া করার আক্ষেপ বয়ে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু সোভিমার মাঠে যা ঘটল, তা হয়তো তাঁর স্বপ্নের চেয়েও অনেক বড়।
টেল এন্ডারদের সঙ্গী করে বাজিমাত
৫১৭ বল নিয়েছিলেন ৪০০ রান করতে। ইনিংসে ছিল ৪৬টি চার ও ৭টি ছক্কা। ৪০০ রানে অপরাজিত থাকেন চিন্ময়। সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো, মিজ়োরামের শেষ ব্যাটার হিসেবে যখন লালরেমপুইয়া ২২ গজে আসেন, তখন চিন্ময়ের ব্যক্তিগত রান ছিল ২৩১। সেখান থেকে প্রতিপক্ষের সমস্ত ফিল্ডিং ফাঁদ এড়িয়ে একাই লড়াই টেনে নিয়ে যান তিনি। টেল-এন্ডারকে আগলে রেখে একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তিনি যখন ৪০০ রানের গণ্ডি স্পর্শ করেন, তখন পুরো স্টেডিয়াম উঠে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায়। চিন্ময় ল্যান্ডমার্কে পৌঁছানোর পরপরই মিজ়োরাম তাদের প্রথম ইনিংস ৯ উইকেটে ৫৮১ রানে ডিক্লেয়ার করে।
পিছনে ফেললেন পৃথ্বী শ-কে
এই ইনিংসের মধ্য দিয়ে তিনি পিছনে ফেলে দিয়েছেন মুম্বইয়ের বিধ্বংসী ওপেনার পৃথ্বী শ-কে। ২০২৩ সালে অসমের বিরুদ্ধে পৃথ্বী করেছিলেন ৩৮৩ বলে ৩৭৯ রান। সেই রেকর্ড টপকে চিন্ময় এখন রঞ্জি ট্রফির ৯২ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোরের মালিক। বিশ্ব ক্রিকেটের প্রথম শ্রেণির আঙিনায় চিন্ময় সুতার হলেন দ্বাদশ ব্যাটার, যাঁর নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে একটি ইনিংসে ৪০০ কিংবা তার বেশি রান। ব্র্যাডম্যান, হানিফ মহম্মদ, আর্চি ম্যাকলারেনদের পাশে আজ জায়গা করে নিলেন ভারতের এক অখ্যাত তরুণ, যা ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বহু যুগ।
রঞ্জি ট্রফির ইতিহাসে সর্বাধিক রান
বিবি নিম্বলকর: ৪৪৩* রান (১৯৪৮)
চিন্ময় সুতার: ৪০০* রান (২০২৬)
পৃথ্বী শ: ৩৭৯ রান (২০২৩)
সঞ্জয় মঞ্জরেকর: ৩৭৭ রান
এমভি শ্রীধর ও তন্ময় আগরওয়াল: ৩৬৬ রান
আপনি কি জানেন?
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ইতিহাসে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের বিশ্ব রেকর্ড রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় কিংবদন্তি ব্রায়ান চার্লস লারার দখলে—১৯৯৪ সালে ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে ডারহামের বিরুদ্ধে তিনি অপরাজিত ৫০১ রান করেছিলেন।
টেস্ট ক্রিকেটের একমাত্র ৪০০ রানও ব্রায়ান লারার (অপরাজিত ৪০০ বনাম ইংল্যান্ড, ২০০৪ সাল)।
১৯৪৮ সালে নিম্বলকর ৪৪৩ রানে অপরাজিত থাকার সময় বিপক্ষ কাথিয়াওয়াড় দল আর ম্যাচ খেলতে রাজি না হয়ে খেলা ছেড়ে চলে যাওয়ায় তিনি ডন ব্র্যাডম্যানের ৪৫২ রানের তৎকালীন প্রথম শ্রেণির বিশ্ব রেকর্ড ভাঙার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন।
