স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা দূরীকরণ এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ। সংস্থাটির মতে, চারটি সুনির্দিষ্ট সম্ভাবনাময় খাতে প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাধা দূর করা গেলে দেশে বিপুল সংখ্যক নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভার অংশ হিসেবে আয়োজিত ‘আনলকিং ইনভেস্টমেন্ট ফর জবস’ শীর্ষক একটি অনলাইন প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বাংলা ট্রিবিউনের বিজনেস এডিটর গোলাম মওলার এক প্রশ্নের জবাবে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বিশেষজ্ঞ সেবাস্তিয়ান বোয়াত্রো বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের এই সম্ভাবনার কথা জানান।
বিশ্বব্যাংকের সিপিএসডি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারের নীতিগত সহায়তা ও বিনিয়োগের বাধা দূর করা গেলে যেসব সুযোগ তৈরি হতে পারে। মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য আবাসন নির্মাণে বিনিয়োগ বাড়লে বছরে ২৩ লাখ ৭০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। দেশীয়ভাবে রং ও রঞ্জক উৎপাদন সম্প্রসারণের মাধ্যমে ৬ লাখ ৬৪ হাজারের বেশি আনুষ্ঠানিক চাকরি সৃষ্টি সম্ভব।প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে ৯৬ হাজার থেকে ৪ লাখ ৬০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে এ খাতে সংস্কার ও বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করা জরুরি।
বিশ্বব্যাংক স্পষ্ট জানিয়েছে, এসব সংখ্যা সম্ভাবনাময় হিসাব, যা বাস্তবায়িত করতে হলে সুনির্দিষ্ট নীতিগত পরিবেশ ও ব্যবসাবান্ধব কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।
উচ্চ খেলাপি ঋণ, সুশাসনের ঘাটতি এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর আস্থা হ্রাস পাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ জানান, বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের ভিত্তি শক্তিশালী করতে সংস্থাটি ৪৫০ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন অনুমোদন করেছে।
‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট–২’-এর আওতায় যেসকল পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ ও তহবিলের মূলধন বৃদ্ধি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতার উন্নয়ন। দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠন ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের প্রয়োজনীয় সংস্কার। জরুরি তারল্য সহায়তার কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলা।
এছাড়া, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থা (আইএফসি) তাদের ‘অরিজিনেট-টু-ডিস্ট্রিবিউট’ কৌশলের আওতায় আন্তর্জাতিক বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নিয়ে আসার জন্য কাজ করছে।
উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রাজনৈতিক ও নীতিগত অনিশ্চয়তা, ঋণঝুঁকি এবং মুদ্রার ওঠানামার কারণে আন্তর্জাতিক পুঁজি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় আসে না। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের মতে, ২০২৬ অর্থবছরে তারা বিশ্বব্যাপী বেসরকারি খাত থেকে ১১২ বিলিয়ন ডলার পুঁজি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের বিশ্বব্যাপী কর্মসংস্থান কৌশলটি মূলত তিনটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত।মানবসম্পদ ও অবকাঠামোয় ধারাবাহিক বিনিয়োগ। ব্যবসাবান্ধব ও স্বচ্ছ নিয়ন্ত্রক পরিবেশ গড়ে তোলা। বেসরকারি খাতের সরাসরি সম্প্রসারণে কৌশলগত সহায়তা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জন্য ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করাই হবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রধান চাবিকাঠি।
