নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে আসার খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টা থেকেই উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উপস্থিতি বাড়তে থাকে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিক্ষোভের একপর্যায়ে ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় আজ দুপুরে উপাচার্য ভবনের ভেতরে তাকে রেখে বাইরে থেকে ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা।
এসময় ‘আমাদের দাবি, আমাদের দাবি, মানতে হবে, মানতে হবে’ এবং ‘প্রত্যাখ্যান, প্রত্যাখ্যান—নতুন ভিসি প্রত্যাখ্যান’সহ বিভিন্ন স্লোগানে ক্যাম্পাস উত্তাল হয়ে ওঠে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে আসার খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টা থেকেই উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উপস্থিতি বাড়তে থাকে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিক্ষোভের একপর্যায়ে ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। শিক্ষার্থীদের দাবি, উপাচার্যকে কার্যালয় থেকে বের হতে বাধা দিতে তারা অ্যালার্ম বাজান। একপর্যায়ে ভবনের বিদ্যুৎ-সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
যন্ত্রকৌশল বিভাগের আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘উপাচার্য আমাদের দেয়া তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকেছেন। আমরা অ্যালার্ম দিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি শোনেননি। তাই আমরা আবারো তালা দিয়েছি।’
এসময় উপাচার্য ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদসহ সংগঠনটির কয়েকজন নেতা-কর্মী। এর আগে সকালে ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত বলেন, ‘আমরা (ভিসিসহ) একসঙ্গেই ভেতরে প্রবেশ করেছি।’
নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদে গত কয়েক দিন ধরে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশও কর্মবিরতি পালন করছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এ নিয়োগের প্রতিবাদে পরদিন থেকেই আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীদের বাধার কারণে নতুন উপাচার্য এত দিন ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি। আজ সকালে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। পরে উপাচার্য ভবনের ফটকের তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে যান।
উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও প্রশাসনিক অচলাবস্থায় চুয়েটে শিক্ষা কার্যক্রমের স্বাভাবিক পরিবেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমঝোতা হবে কিনা, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।
