ছবি: সংগৃহীত
-->মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের রকেট প্রযুক্তির সমন্বয়ে এক নতুন প্রজন্মের ইলেকট্রিক স্পোর্টস কারের প্রোটোটাইপ উন্মোচন করেছে ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। চমকপ্রদ এই গাড়িটির নাম ‘রোডস্টার’। চলতি সপ্তাহে আয়োজিত এক জমকালো ইভেন্টে গাড়িটি প্রদর্শন করা হয়। উদ্ভাবনী নানা প্রযুক্তি দিয়ে সাজানো এই গাড়ির উৎপাদন শুরু হবে ২০২৮ সালে।
প্রথম দেখার পর এক দশকেরও বেশি সময় কেটে গেছে। তবু এই নতুন মডেলটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। উন্মোচন অনুষ্ঠানে দুই আসনের একটি সাদা রঙের রোডস্টার দেখা যায়। গাড়িটিতে একটি বিশেষ সাকশন সিস্টেম ও রকেট থ্রাস্টার যুক্ত করা হয়েছে। এটি একটি ঢালু র্যাম্প ব্যবহার করে উল্টো হয়ে চলতে সক্ষম। এমনকি শূন্যে ঘুরপাক খেয়ে আবার মাটিতে অবতরণ করতে পারে। পরবর্তী সময়ে গাড়িটি থ্রাস্টার ব্যবহার করে একটি ট্রাক ও কয়েকটি গাড়ির ওপর দিয়ে লাফিয়ে পার হতে সক্ষম হয়।
টেসলা ও স্পেসএক্সের এমন যৌথ প্রচেষ্টা প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, প্রতিষ্ঠান দুটির প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক হয়তো দুটি বড় কোম্পানিকে একীভূত করার পরিকল্পনা করছেন। এই নতুন গাড়িটির ঘোষণা আসার পর শুক্রবার প্রাক-শেয়ার বাজারে টেসলার শেয়ারের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে গেছে।
স্পেসএক্সের টেক্সাসের টেস্ট সাইটে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ছিল নাটকীয় আবহ। ধোঁয়া, যান্ত্রিক শব্দ এবং কাউন্টডাউনের মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হয় এ যানটি। অনুষ্ঠানে রুপালি বেল্ট পরা ইলন মাস্ক জানান, স্পেসএক্স ও টেসলার প্রকৌশলীরা যৌথভাবে এটি তৈরি করেছেন। সিনেমায় দেখা যায় এমন অনেক কিছুকে ছাড়িয়ে গেছে এর বাস্তব রূপ।
টেসলার প্রকৌশল প্রধান লার্স মোরাভি জানান, রোডস্টার গাড়িটি শূন্য থেকে প্রতি ঘণ্টায় ৯৭ কিলোমিটার গতি তুলতে এক সেকেন্ডেরও কম সময় নেয়। গাড়িটির সর্বোচ্চ গতিবেগ প্রতি ঘণ্টায় ৩৭০ কিলোমিটারের বেশি হতে পারে। তবে মাস্ক দাবি করেছেন এর গতি হবে শব্দের গতির অর্ধেকেরও বেশি।
একবার পুরোপুরি চার্জ দিলে গাড়িটি প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারবে। তবে ২০১৭ সালে প্রথম যখন এই মডেলের ধারণা দেওয়া হয়, তখন দ্বিগুণ দূরত্বের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সে সময় ২০২০ সাল থেকে গ্রাহকের হাতে গাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হলেও তা বারবার পিছিয়েছে। প্রথম প্রজন্মের রোডস্টার উন্মোচিত হয় ২০০৮ সালে, যা ২০১২ পর্যন্ত বিক্রি হয়। সেটি ছিল টেসলার তৈরি প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ি।
নতুন মডেলের জন্য ইতোমধ্যে বুকিং নেওয়া শুরু হয়েছে। পারফরম্যান্স সংস্করণের জন্য বুকিং মানি ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ডলার। অন্যদিকে স্পেশাল থ্রাস্টার সংস্করণের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার অগ্রিম দিতে হবে। এ ছাড়া শুধু আমন্ত্রিত গ্রাহকদের জন্য থাকবে ‘রকেট’ নামের একটি বিশেষ সংস্করণ। এতে পূর্ণাঙ্গ ফ্লাইং সিস্টেম সুবিধা পাওয়া যাবে।
বর্তমানে চালকবিহীন গাড়ি ও হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির দিকে বেশি নজর দিচ্ছে টেসলা। তাই আর্থিক দিক থেকে রোডস্টার প্রতিষ্ঠানটির বড় চালিকাশক্তি নাও হতে পারে। তবে ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রকৌশলের নিদর্শন হিসেবে এই সুপারকার টেসলার একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রতীক হিসেবে কাজ করবে। সামনের দিনগুলোতে প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বকে কোন দিকে নিয়ে যাওয়া যায়, সেই দিকে এক বড় পদক্ষেপ দেখা গেল টেসলার এই প্রদর্শনীতে।
