ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে থাকলেও প্রথম একাদশে সুযোগ পাচ্ছে না বৈভব সূর্যবংশী। প্রতিটি ম্যাচেই ডাগআউটে বসে থাকছে। খেলিয়ে যাওয়া হচ্ছে সঞ্জু স্যামসন এবং অভিষেক শর্মাকে। বৈভবের প্রতি এই আচরণ দেখে ক্ষিপ্ত তার কোচ মণীশ ওঝা। তিনি যাবতীয় দোষ দিয়েছেন গৌতম গম্ভীর এবং দল পরিচালন সমিতিকে। তাঁর দাবি, বৈভবের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও ভাবনাই নেই গম্ভীরের।
‘স্পোর্টস নাউ’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মণীশ বলেছেন, “এখনকার দল পরিচালন সমিতি ভাবে বেঞ্চে বসিয়ে রেখে ক্রিকেটারদের তৈরি করা যাবে। ওরা ওদের কাজ করছে। ক্রিকেটের প্রচুর কিংবদন্তি রয়েছে। তাঁদের সঙ্গে কথা বলুন। ওঁরা বলে দেবেন কী ভাবে ম্যাচে খেলিয়ে তবেই আগামী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের তুলে আনা হয়। বেঞ্চে বসিয়ে রেখে কোনও দিন ক্রিকেটার তৈরি করা যায়নি, যাবেও না।”
আইপিএলে ভাল খেলে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছিল বৈভব। তার অভিষেকের পর থেকে ভারত যে ১৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে, তার ১১টিতেই বসিয়ে রাখা হয়েছে বৈভবকে। বার বার ভরসা দেখানো হয়েছে সঞ্জুর প্রতি।
৫০ ওভার এবং ২০ ওভারের দলে ঢুকতে বাড়তি পরিশ্রম করছেন যশস্বী জয়সবাল। তিনি সম্প্রতি উইকেটকিপিং করা শুরু করেছেন। বৈভবেরও কি তেমন কিছু করা উচিত? মণীশের পাল্টা জবাব, “এটা কোনও সমাধান হল? ও কি ব্যাটার হিসাবে দলে এসেছে না অলরাউন্ডার হিসাবে? ব্যাটার হিসাবেই তো ভাল খেলেছে। এখন যদি বল করা শুরু করে এবং পাঁচ বছর কঠোর পরিশ্রমের পর ভারতীয় দলে ঢোকে, তখন কি এটা বলবে যে অলরাউন্ডার হিসাবে দলে এসেছে? টি-টোয়েন্টিতে বল করা সহজ নয়। প্রচুর চাপ থাকে। ওটা ওর কাজ নয়। তা হলে প্রস্তুতি নেবে কেন? ও পুরোদস্তুর ব্যাটার, তাই ব্যাটার হিসাবেই খেলবে। নিজেকে ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছে।”
এর পরেই গম্ভীরের প্রতি তোপ দেগেছেন মণীশ। তাঁর কথায়, “বৈভবকে অনুপ্রাণিত করতে হবে। ও দেশের সম্পদ। আগামী ২০-২৫ বছর ভারতের সেবা করবে। গৌতম গম্ভীরের আর কী আসে যায়? দু’-তিন বছর, বা যত দিন ওঁর মেয়াদ থাকবে তত দিন ও পদে থাকবে। তার পর চলে যাবে। কারও ভবিষ্যৎ নিয়ে ওর কোনও চিন্তাই নেই।”
একদম শেষে বৈভবের প্রতিভার বর্ণনা করেছেন মণীশ। বলেছেন, “বৈভব ঝড়ের মতো। যে-ই সামনে আসবে টুকরো হয়ে যাবে। এই ঝড় দীর্ঘ দিন থাকবে। আমরা ছ’মাস, একটা বা দুটো আইপিএলের কথা বলছি না। আগামী কয়েক বছরে বৈভব এমন খেলবে যে মনে হবে আকাশে তারা জ্বলজ্বল করছে। যে যা করছে করুক। বৈভব সব জায়গায় দাপট দেখিয়ে রান করবে। ওর মধ্যে ততটাই প্রতিভা আছে।”
